সর্বশেষ :
মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার সময়রেখা প্রকাশ শিল্পকলায় আজ রুনা লায়লার ঐতিহাসিক একক সংগীতসন্ধ্যা চার বিয়ে, চার বিচ্ছেদ; ভালোবাসা নিয়ে জেনিফারের নতুন দর্শন চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকে বাড়ছে খেলাপি ঋণের বোঝা বিদেশি বিনিয়োগে বড় বাধা: সক্ষমতার সূচকে পিছিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ক্রেতাদের সঙ্গে পোশাক খাতের সম্পর্ক আরও দৃঢ় ত্রাওরের কঠোর নীতি: মুসলিম নেতাদের সঙ্গে সংঘাতের পথে বুরকিনা ফাসো শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার সাহস কোথায় পান: রাহুল গান্ধী বিরোধী শূন্য নির্বাচনের পাঁয়তারা নিকারাগুয়ায়, তীব্র সমালোচনার ঝড় সরকারের সঙ্গে বৈঠকে সিজেপি, অনড় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে

দেশে ফিরলেন স্পিকার, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে জানালেন নিজের অবস্থান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার
দেশে ফিরলেন স্পিকার, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে জানালেন নিজের অবস্থান

প্রকাশ: ২৪ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত নানা নাটকীয় পরিস্থিতি এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের গুঞ্জনের মধ্যেই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক সফররত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে আকস্মিকভাবে দেশে ফিরে এসেছেন। গত শুক্রবার দুপুর সোয়া বারোটার দিকে তিনি ব্যাংকক থেকে ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পদার্পণ করেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে স্পিকারকে স্বাগত জানান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে যে তীব্র জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা চলছে, তা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে স্পিকার অত্যন্ত কৌশলী ও সাবধানী অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে রাষ্ট্রপতি মহোদয় শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিংবা তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, সে বিষয়ে তাঁর নিজের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা পূর্বধারণা নেই।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে আরও বলেন যে তিনি গত কিছুদিন দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ এই আকস্মিক ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নন। তবে তিনি বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েই গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে কিছুটা অবগত হয়েছেন এবং এখন দেশে ফিরে আসার পর সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বিধান ও সংসদীয় রীতিনীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে দেশের রাষ্ট্রপতি যদি কোনো কারণে তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সেই পদত্যাগপত্র সরাসরি স্পিকারের দপ্তরেই জমা দিতে হবে। এরপর দেশের প্রচলিত সংবিধানের নিয়ম অনুসারে আগামী নব্বই দিনের বা তিন মাসের একটি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, যা আমাদের দেশের দীর্ঘদিনের সংসদীয় প্রথা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অংশ।

নিজের চিকিৎসার সফর সংক্ষিপ্ত করে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই কেন তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে এলেন—এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে স্পিকার জানান যে তাঁর শারীরিক চেকআপ বা স্বাস্থ্যপরীক্ষার কার্যক্রম গতকালই সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং ঢাকায় তাঁর কিছু জরুরি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ থাকায় তিনি আর ব্যাংককে অবস্থান না করে দ্রুত দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই স্পিকার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে ব্যাংকক গমন করেছিলেন এবং তাঁর পূর্বনির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী আরও কিছুদিন সেখানে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর এই আকস্মিক ও ত্বরিত প্রত্যাবর্তনের খবরটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এড়ায়নি এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জন ও আলোচনার সঙ্গে এটি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে। কারণ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও প্রথা অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দিলে তার পরবর্তী সাংবিধানিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্পিকারের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি এবং রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্বভার স্পিকারকেই গ্রহণ করতে হয়।

গত কয়েক দিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে আলোচিত হয়ে আসছে এবং বিভিন্ন দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সূত্র দাবি করে আসছে যে তিনি যেকোনো মুহূর্তে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। এমনকি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে গতকাল রাতে উল্লেখ করেছিল যে সংশ্লিষ্ট একাধিক গোপন সূত্রের বরাсте জানা গেছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবার যেকোনো সময়ে পদত্যাগ করতে পারেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি তাঁর বিদায়ের সার্বিক প্রস্তুতির কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির এই সম্ভাব্য পদত্যাগ দেশের শাসনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় একটি বড় ধরনের ঘটনা হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমানের ক্ষমতাচ্যুত ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের চাবিকাঠি ও রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পাঁচ বছরের এই পূর্ণ মেয়াদকাল শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। কিন্তু দেশের চলমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবং নানা মহলের তীব্র দাবি ও চাপের মুখে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার বহু আগেই এই আকস্মিক পদত্যাগের গুঞ্জন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি নতুন সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে এবং সেই শূন্যতা পূরণের জন্য সংবিধানে বর্ণিত ট্রাডিশন বা প্রথানুযায়ী স্পিকারকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব কাঁধে নিতে হতে পারে। আর ঠিক এই কারণেই স্পিকারের বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসা এবং এ বিষয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরবর্তী প্রভাব বিস্তারকারী বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট আইন ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত