সর্বশেষ :
মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার সময়রেখা প্রকাশ শিল্পকলায় আজ রুনা লায়লার ঐতিহাসিক একক সংগীতসন্ধ্যা চার বিয়ে, চার বিচ্ছেদ; ভালোবাসা নিয়ে জেনিফারের নতুন দর্শন চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকে বাড়ছে খেলাপি ঋণের বোঝা বিদেশি বিনিয়োগে বড় বাধা: সক্ষমতার সূচকে পিছিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ক্রেতাদের সঙ্গে পোশাক খাতের সম্পর্ক আরও দৃঢ় ত্রাওরের কঠোর নীতি: মুসলিম নেতাদের সঙ্গে সংঘাতের পথে বুরকিনা ফাসো শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার সাহস কোথায় পান: রাহুল গান্ধী বিরোধী শূন্য নির্বাচনের পাঁয়তারা নিকারাগুয়ায়, তীব্র সমালোচনার ঝড় সরকারের সঙ্গে বৈঠকে সিজেপি, অনড় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে

শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার সাহস কোথায় পান: রাহুল গান্ধী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার
শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার সাহস কোথায় পান: রাহুল গান্ধী

প্রকাশ: ২৪ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্রসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের অধিকার আদায়ের চলমান আন্দোলন যখন দেশজুড়ে এক তীব্র রূপ ধারণ করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশটির সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন কিছু বিতর্কিত ও দমনপীড়নমূলক পদক্ষেপ পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান ছাত্র-বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার জন্য দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি সরাসরি কঠোর হুশিয়ারি ও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই সতর্কবার্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই আচরণকে সরাসরি ধিক্কার জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতামত প্রকাশের অপরাধে দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার ধৃষ্টতা ও সাহস তারা কোথায় পায় এবং এই অনৈতিক কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি অত্যন্ত কঠোর বার্তা প্রকাশ করে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যেকোনো ধরনের তথাকথিত ‘অবৈধ সমাবেশ’ ও বিক্ষোভ থেকে নিজেদের শত হস্ত দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী কিছু নির্দেশনার অজুহাত দিয়ে বলা হয় যে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বর্তমানে যে জনসমাবেশ ও আন্দোলন চলছে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ। তাই কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক যদি এই ধরনের কোনো তথাকথিত বেআইনি সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে সরাসরি প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের এমন কঠোর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের নীতি ছাত্রসমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে সচেতন মহল মনে করতে শুরু করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা ওই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও অত্যন্ত অবমূল্যায়নমূলক ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এ ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম বা পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয় যে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব তাদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবন এবং কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে। প্রশাসন অত্যন্ত সুকৌশলে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে আইন মেনে চলা এবং নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রধান কর্তব্য, আর তাই যেকোনো ধরনের আন্দোলন থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য শ্রেয়। এই ধরনের প্রচ্ছন্ন ও প্রত্যক্ষ ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মূলত তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ করার মৌলিক অধিকার ও সাহসিকতাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই ধরনের দমনপীড়নমূলক ও অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুক্রবার সকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁর অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত জোরালো ও প্রতিবাদী পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় লেখেন যে, দেশের নাগরিকদের এবং বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতা প্রয়োগ করার জন্য এ ধরনের প্রকাশ্য হুমকি বা ধমক দেওয়ার সাহস তারা কোথায় পায়। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে আরও উল্লেখ করেন যে দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে তরুণদের স্বাধীন চিন্তা, ন্যায়বোধ ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস জোগানোর কথা, সেখানে আজ তারা প্রশাসনের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে এবং এই স্পর্ধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই একদিন জবাবদিহি করতে হবে। তাঁর এই টুইট বা পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন এক নৈতিক বল ও সংহতির সৃষ্টি করে।

অবশ্য শুধু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে এই ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা নয়, বরং গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রধান শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়া এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের তীব্রতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে দেশের আরেকটি খ্যাতনামা বিদ্যাপীঠ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউ কর্তৃপক্ষও একই ধরনের কঠোর পথ বেছে নিয়েছে। শুক্রবার জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এক কড়া সতর্কবার্তা জারি করা হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত অংশীজনকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সবার আগে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জেএনইউ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের জনসমক্ষে বিক্ষোভ ও জমায়েতের বিভিন্ন শর্তের কথা বারংবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের যন্তর-মন্তরের আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করতে বা চলমান কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে কঠোরভাবে বারণ করা হয়। দেশের প্রধান দুটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমন্বিত ও ভীতিপ্রদ আচরণ প্রমাণ করে যে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থক প্রশাসনগুলো আন্দোলনরত তরুণদের নৈতিক মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করতেও দ্বিধাবোধ করছে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির মতো দেশজোড়া বিভিন্ন গুরুতর সংকটের বিরুদ্ধে যখন দেশের তরুণ প্রজন্ম ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা দলমত নির্বিশেষে রাজপথে নেমে এসে নিজেদের নায্য অধিকার আদায় করার জন্য শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, তখন এ ধরনের প্রশাসনিক হুমকি কেবল পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও সংঘাতপূর্ণ করে তুলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আজ মুক্তবুদ্ধি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু না হয়ে একধরনের ভীতিকর বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারের টুটি চেপে ধরার প্রকাশ্য চেষ্টা চলছে। রাহুল গান্ধীর এই জোরালো প্রতিবাদের পর দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং বুদ্ধিজীবী সমাজও শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রশাসনের এমন অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী মনোভাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বর্তমান এই উত্তাল পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলোর এই হুমকি ও ধমকের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে কিংবা এর বিপরীতে ছাত্রসমাজ কীভাবে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র দেশের রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত