নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে জোর আলোচনা, এগিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার
নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে জোর আলোচনা, এগিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠরা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর অন্তর্বর্তী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। তবে এখন রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে—কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলোর দাবি, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এখনো বিএনপির আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। তবে দলীয় শীর্ষপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নীরবে পর্যালোচনা চলছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক এই পদে এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যিনি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং দলীয় আস্থার দিক থেকে উপযুক্ত বিবেচিত হবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল। এর মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম বারবার উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও সম্ভাব্যদের আলোচনায় যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক দিনের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় এবং দল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র বলছে, নানা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিবেচনায় তার নাম এখন সবচেয়ে আলোচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ একটি অংশের ধারণা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে, যিনি দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত। এই প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

রাজনীতির বাইরেও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে মতামত দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এক ফেসবুক পোস্টে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে নিজের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে কঠিন সময় পার করা, রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিগত সৌজন্য এবং পরিমিত রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে মির্জা ফখরুল এ দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত হতে পারেন।

একইভাবে ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, অভিজ্ঞতা, সংযত রাজনৈতিক আচরণ এবং জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব মতামত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেবল ব্যক্তির জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে না; বরং সাংবিধানিক বাস্তবতা, দলীয় কৌশল, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং রাজনৈতিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক বিবেচনার ওপর।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের মাধ্যমে শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে, তিনি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনো কিছু সময় রয়েছে। রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে বর্তমানে যেসব নাম আলোচনায় রয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই তালিকায় পরিবর্তন আসাও অস্বাভাবিক নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আগামী কয়েক সপ্তাহ আরও জোরালো হতে পারে। দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক বিধান, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং দলীয় সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন।

রাষ্ট্রপতির পদটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক বিধান—সবকিছুর সমন্বয়েই নির্বাচনের পথ নির্ধারিত হবে। ফলে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলীয় ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত