৫ বছর পর টেস্টে সৌম্য, বাদ হৃদয়-মাহমুদুল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার
৫ বছর পর টেস্টে সৌম্য, বাদ হৃদয়-মাহমুদুল

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়া সফরকে সামনে রেখে ঘোষিত টেস্ট দল নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। পাঁচ বছর পর জাতীয় দলের সাদা পোশাকের স্কোয়াডে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ওপেনার সৌম্য সরকার। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়, তাওহিদ হৃদয় ও মাহিদুল ইসলাম জায়গা পাননি মূল দলে। এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুল বাশার জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে একাধিক খেলোয়াড়ের চোট এবং স্কোয়াডের ভারসাম্য রক্ষা ছিল নির্বাচকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের চার দিনের সিরিজও বিবেচনায় রাখতে হয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান প্রয়োজন—দুই দিক মাথায় রেখেই দল নির্বাচন করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সৌম্য সরকারের প্রত্যাবর্তন। ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলার পর দীর্ঘ পাঁচ বছর জাতীয় দলের টেস্ট দলে ছিলেন না তিনি। তবে এই সময়টা তিনি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করেছেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগের সর্বশেষ আসরে সাত ম্যাচে ৬৩৩ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন সৌম্য। তাঁর গড় ছিল ৪৫.২১, যা নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, সৌম্য দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে যে গতির বোলিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে, সে বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচকরা অন্য ওপেনারদের কথাও বিবেচনা করেছিলেন, কিন্তু এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত প্রস্তুত ডানহাতি ওপেনারের অভাব থাকায় সৌম্যকেই সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছে।

অন্যদিকে দল থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যাটিং পারফরম্যান্স প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই ম্লান। সর্বশেষ ছয় ইনিংসের চারটিতেই তিনি এক অঙ্কের ঘরে আউট হয়েছেন এবং মাত্র একটি ফিফটি করেছেন। হাবিবুল বাশার জানান, মাহমুদুল বর্তমানে সেরা ছন্দে নেই এবং তাঁকে কিছুটা নড়বড়ে মনে হচ্ছে। তাই তাঁকে সাময়িকভাবে মূল দল থেকে সরিয়ে নিজের খেলায় আরও মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সফরে মাহমুদুলের একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও সীমিত ছিল। সে কারণে তাঁকে মূল দলে না রেখে ভবিষ্যতের জন্য আরও প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দেওয়াই যুক্তিযুক্ত মনে করা হয়েছে।

একইভাবে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন তরুণ ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয়। গত মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেললেও ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। দুই ইনিংসে করেন মাত্র ২ ও ৯ রান। তবে নির্বাচকরা জানিয়েছেন, হৃদয়কে ভবিষ্যতের টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

হাবিবুল বাশার বলেন, মেহেদী হাসান মিরাজ দলে ফেরায় হৃদয়ের একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। তাই তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচ খেলতে পাঠানো হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। নির্বাচকদের বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য তাঁকে আরও প্রস্তুত করবে।

একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাহিদুল ইসলামকেও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সঙ্গে পাঠানো হচ্ছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে স্কোয়াডে থাকলেও তিনি একাদশে সুযোগ পাননি। এবারও মূল টেস্ট দলে জায়গা হয়নি তাঁর। পরিবর্তে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জাকের আলীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

জাকের আলীর প্রত্যাবর্তন নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, আগেরবার টেস্ট দলে থাকাকালে জাকের খুব একটা খারাপ খেলেননি। তবে পরে ফর্ম হারানো এবং মানসিকভাবে কিছুটা চাপে থাকায় তাঁকে জাতীয় দল থেকে সরিয়ে হাই পারফরম্যান্স কর্মসূচিতে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ভালো পারফরম্যান্স করে তিনি আবারও জাতীয় দলে ফেরার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশ দলের এই নির্বাচনী কৌশলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্ট বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের চার দিনের ম্যাচে খেলার সুযোগ দিয়ে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তুত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের গুরুত্বপূর্ণ সফরে ব্যবহার করার নীতি অনুসরণ করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ১৬ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে প্রথম চার দিনের ম্যাচ খেলবে। দ্বিতীয় ম্যাচটি শুরু হবে ২৩ আগস্ট।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন কন্ডিশনে বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স করে, সেদিকে যেমন সবার নজর থাকবে, তেমনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে হৃদয়, মাহমুদুল ও মাহিদুলের পারফরম্যান্সও ভবিষ্যৎ জাতীয় দল নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচকদের মতে, বর্তমান দল নির্বাচন শুধু একটি সিরিজকে সামনে রেখে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত