সর্বশেষ :

স্বামীর হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ২৬ বার
স্বামীর হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৯ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিবেকবান মাত্রই নাড়া দিচ্ছে। সমাজের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং অপরাধীদের বেপরোয়া মনোভাবে মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে পতিত হয়েছে। সম্প্রতি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এমনই এক রোমহর্ষক ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক অসহায় স্বামীকে জোরপূর্বক বেঁধে রেখে তাঁর স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের সংবাদ কেবল স্থানীয় এলাকাবাসীকেই নয়, বরং গোটা দেশকে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় গত সোমবার গভীর রাতে। ওই দিন রাত আনুমানিক বারোটার দিকে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীকে মোবাইল ফোনে সুকৌশলে তাঁর নিজ বাড়ির আশপাশের একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সরল বিশ্বাসে স্বামী সেখানে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওত পেতে থাকা রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার ও ইমন খন্দকারসহ আরও কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে বলপ্রয়োগ করে শক্ত করে বেঁধে ফেলে। নিরুপায় স্বামীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অপরাধীরা তাঁরই মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয় এবং তা ব্যবহার করেই স্ত্রীকে টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসার জন্য হুমকি দিয়ে কল করায়।

স্বামীর চরম বিপদ ও প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা শুনে সেই মুহূর্তেই স্ত্রী ছুটে যান ঘটনাস্থলে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি বুঝতে পারেন যে এটি একটি গভীর ও নৃশংস ষড়যন্ত্র ছিল। ভুক্তভোগী গৃহবধূ গণমাধ্যম ও পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে অত্যন্ত আতঙ্ক ও কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান যে, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দেখতে পান তাঁর স্বামীর হাত-পা বাঁধা রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর স্বামীর গলায় ধারালো অস্ত্র বা ছুরি ঠেকিয়ে রেখে তাঁকে জিম্মি করে রেখেছে। এই অবর্ণনীয় ও ভয়ংকর পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ না দিয়ে স্বামীর চোখের সামনেই হযরত আলীসহ তিন নরপশু ওই গৃহবধূকে নির্মমভাবে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।

এদিকে ধর্ষণের এই পৈশাচিক ঘটনার একপর্যায়ে আশপাশের লোকজনের পদশব্দ ও উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পেরে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং ভুক্তভোগী গৃহবধূকে উদ্ধার করে নিরাপদে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে পুলিশি ত্বরিত পদক্ষেপে এই পৈশাচিক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রধান তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক পরীক্ষার ও চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া গণমাধ্যমকে জানান যে, এই পৈশাচিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মোট নয়জনকে আসামি করে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা প্রধান চারজনের মধ্য থেকে ইতিমধ্যেই তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রে এমন নৃশংস অপরাধের দ্রুত বিচার না হলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

শরীয়তপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের বেশ কয়েকটি লোমহর্ষক ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় সাত বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার বিকেলে সাধারণ ও উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত আহাম্মদ আলীর বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে। অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় আট বছরের এক শিশুকে মুদি দোকানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মুরাদ নামের এক দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা সমাজকে গ্রাস করা পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদেরই বহিঃপ্রকাশ।

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাক কারখানায় চাকরি করার সুবাদে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে সাগর আহম্মেদ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে যে, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নারীদের সুরক্ষার অভাব এবং অপরাধীদের এই বেপরোয়া রূপ সমাজের মূল ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে নাড়া দিচ্ছে।

আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা, যেখানে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হলেও তা ধামাচাপা দেওয়ার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা করা হয়। গত আট জুন শিশুটিকে ফুচকা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে এই ন্যক্কারজনক অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং হযরত আলী নামের সেই অভিযুক্তকে পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেপ্তার না করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশেষে গত মঙ্গলবার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপস করার জন্য একটি সালিশ বৈঠক বসায় প্রভাবশালী আসামিপক্ষ। সেখানে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে জোরপূর্বক ডেকে এনে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন এলাকাবাসী এই অন্যায়ের খবর জানতে পেরে পুলিশে খবর দেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত হযরত আলীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করে।

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত এই সমস্ত অপরাধমূলক ঘটনা প্রমাণ করে যে, সমাজে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রুখতে এবং আইনশৃঙ্খলার কঠোর শাসন প্রতিষ্ঠা করতে কতখানি উদাসীনতা ও ঘাটতি রয়ে গেছে। নারী ও শিশুরা যদি তাদের নিজ বাসগৃহে কিংবা পরিচিত পরিবেশে নিরাপদ না থাকে, তবে একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজের স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীর সামনে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মতো পৈশাচিক ঘটনা কিংবা শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে সর্বস্তর থেকে। আইনের কঠোর শাসন এবং সামাজিক সচেতনতাই কেবল পারে এই বর্বরোচিত অপরাধগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ নিশ্চিত করতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত