স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ চায় জামায়াত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ চায় জামায়াত

প্রকাশ: ২৯ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত বা বন্ধ করার যে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির স্পষ্ট অভিমত হলো, বিদ্যমান প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিক্ষকেরা চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার রাখেন, কিন্তু এই সুযোগ বাতিলের যেকোনো উদ্যোগ সাধারণ নাগরিকের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করবে। এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুসহ প্রশাসনিক কিছু নিয়োগের বিরোধিতার সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জামায়াতের একটি শীর্ষ প্রতিনিধিদল।

দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর নেতৃত্বে ইসির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ও নেতা শিশির মোহাম্মদ মনিরসহ অন্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের। নির্বাচন কমিশনের নীতিনির্ধারক মহলের সঙ্গে এই বৈঠকে মূলত দুটি প্রধান দাবি অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনি অধিকার পুনর্বহালের বিষয়টি।

জামায়াত নেতারা মনে করেন, গত একুশে জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার যে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে, তার পেছনে গভীর কোনো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে। এ বিষয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ইতিপূর্বে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শিক্ষকেরা অতীতে যেভাবে চাকরি ছেড়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন, তা হঠাৎ করে বন্ধ করার এই প্রস্তাব কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এর পেছনে সরকারের কোনো মহলের ইন্ধন থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, এ ধরনের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা নির্বাচন কমিশনের সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করবে।

এদিকে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বিষয়ে দলের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন যে, দেশের যেকোনো নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ বা সুপারিশ যদি সরকার বা কমিশন গ্রহণ করে, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে গণ্য হবে। এ ধরনের যেকোনো অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পূর্ণ প্রস্তুতি তাঁদের রয়েছে এবং সঠিক সময়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের বিতর্কিত সুপারিশ দেশের শিক্ষক সমাজের মধ্যেও গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

শুধু শিক্ষকদের নির্বাচনের অধিকার রক্ষা নয়, বরং আজকের নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে আরও একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দাবি উত্থাপন করবে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে সদ্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত মো. সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হবে। জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি চাকরির অবসরের পরে একজন ‘চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিকে’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদে চুক্তিভিত্তিক পুনর্বহাল করা হয়েছে। এর পেছনে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব রয়েছে এবং এর মাধ্যমে মূলত নির্বাচন কমিশনকে একটি নির্দিষ্ট দলের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে দলটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি যে সমস্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে—যেমন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণা করা কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখা—সেগুলো শেষ পর্যন্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকারের মন্ত্রিসভায় এসব সুপারিশ অনুমোদিত হওয়ার পর তা আইনি রূপ দিতে জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হবে। এমতাবস্থায় আইন পাস হওয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যেভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং জোরালো প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে, তাতে আগামী দিনের জাতীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক ময়দান আরও বেশি সংঘাতময় হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি সুযোগ বহাল রাখার দাবি এবং ইসি সচিবালয়ের বিতর্কিত অতিরিক্ত সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের মতো সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আজকের এই নির্বাচন কমিশন অভিমুখে যাত্রা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশন ও সরকার শেষ পর্যন্ত এই দাবির বিপরীতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন দেশের রাজনৈতিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত