মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ডে নতুন দায়িত্ব পেলেন ইশরাক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩২ বার
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ডে নতুন দায়িত্ব পেলেন ইশরাক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রমকে আরও অধিক গতিশীল ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রথিতযশা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এই পুনর্গঠিত কমিটিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর এই নতুন অন্তর্ভুক্তি ও গুরুদায়িত্ব প্রাপ্তি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইনি বিধান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ৮ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী মূল ট্রাস্টি বোর্ড এবং ১৩ ধারা অনুযায়ী এর নির্বাহী কমিটি নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ উইংয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকাউলের স্বাক্ষর সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই নতুন কমিটি গঠনের কথা দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের পুনর্গঠিত এই ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আসীন হয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত ভাইস-চেয়ারম্যান বা সহ-সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খানের ওপর।

নতুনভাবে পুনর্গঠিত এই ট্রাস্টি বোর্ডে ট্রাস্টি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পাশাপাশি আরও যুক্ত হয়েছেন দেশের বরেণ্য বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যান্য সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিশিষ্ট সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের প্রবীণ সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। অন্যদিকে, ট্রাস্টের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে। এই নির্বাহী কমিটিতেও সদস্য হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, মো. মনিরুল হক চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে।

শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গই নন, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার স্বার্থে পদাধিকারবলে ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটিতে সরকারের বেশকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থ বিভাগের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকারবলে এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসনিক কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় ও ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে; যার অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্বাহী কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাме জারি করা এই আদেশ ইতিমধ্যে অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ অভিজ্ঞ মন্ত্রীদের এই সম্মিলিত অংশগ্রহণের ফলে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক প্রতিটি উদ্যোগ এখন আরও বেশি কার্যকর ও গতিশীল রূপ লাভ করবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ এই ঐতিহাসিক ট্রাস্টের কার্যক্রমকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও বেশি গতিশীল, স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের এই পুনর্গঠন সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দূরদর্শী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিপ্রণেতা ও বিশ্লেষকরা। স্বাধীনতার দীর্ঘ অর্জিত ইতিহাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় এই কাঠামোগত সংস্থার ভূমিকা সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নানা সীমাবদ্ধতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক সময়ই মুক্তিযোদ্ধাদের কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা ও অধিকারগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছিল না। বর্তমান সরকারের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং তরুণ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদদের একটি শক্তিশালী সমন্বয় গঠিত হওয়ায় ট্রাস্টের প্রতিটি কার্যক্রমে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সবাই আশাবাদী।

বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মতো একজন গতিশীল নেতার ওপর এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করায় কার্যক্রমে যেমন আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির ছোঁয়া লাগবে, তেমনি মাঠপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা সহজ হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা, চিকিৎসা সেবা, আবাসন সুবিধা এবং তাঁদের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখতে এই ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটি এখন থেকে আরও অধিকতর সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যাঁদের রক্ত ও অবদানের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে, তাঁদের শেষ বয়সে এসে কোনো ধরনের কষ্ট বা অবহেলার শিকার হতে না হয়—সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই ট্রাস্টকে ঢেলে সাজিয়েছে। পরিশেষে, এই শক্তিশালী ও পুনর্গঠিত কমিটির সুযোগ্য নির্দেশনায় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে শতভাগ সফল হবে এবং দেশের বীর সেনানীদের প্রতি জাতির ঋণ কিছুটা হলেও যথাযথভাবে শোধ করতে সক্ষম হবে বলে সমগ্র জাতি প্রত্যাশা করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com