রাজধানীর উন্নয়নে ৩ মন্ত্রীর নতুন উচ্চপর্যায়ের কমিটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
রাজধানীর উন্নয়নে ৩ মন্ত্রীর নতুন উচ্চপর্যায়ের কমিটি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকার অপরিকল্পিত বিস্তার রোধ, ইমারত নির্মাণ ও নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন-বিধিমালাগুলোকে যুগোপযোগী ও অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজধানী ঢাকার ইমারত নির্মাণ ও নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন-বিধিমালা যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা, তদারকির ঘাটতি এবং দ্রুত বদলে যাওয়া নগরীর বাস্তব தேவাকে সামনে রেখে এই উচ্চপর্যায়ে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটিবিষয়ক অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজধানী ঢাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাসযোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানী ঢাকাকে একটি নিরাপদ, আধুনিক এবং পরিকল্পিত মেগাসিটিতে রূপান্তর করার দীর্ঘদিনের দাবিকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিতেই মূলত এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা মহানগরে ইমারত বিধিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে দ্য বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট ১৯৫২ এবং দ্য টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৩ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা এই পুরনো আইনগুলোর অনেক ধারা বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অনিয়ম রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে আইন দুটিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আধুনিক ও জনবান্ধব সংশোধনী আনার কাজটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই কমিটিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই বিশেষ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এ ছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা যুক্ত রয়েছেন। তাঁরা হলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। দেশের আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগীয় কাঠামোর প্রধান এবং আবাসন ও নগর উন্নয়নের মূল দায়িত্বে থাকা এই তিন শীর্ষ মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দেশের নগর ব্যবস্থাপনায় এক নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও নগর সংকটের একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিয়ে আসবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই কমিটির কাজের পরিধি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী। কমিটি বিদ্যমান দুটি আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের সুপারিশ করবে, যাতে ঢাকা মহানগরের ইমারত বিধিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। বর্তমান সময়ে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, জলাশয় ভরাট, এবং ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘনের মতো ঘটনাগুলোর কারণে ঢাকা শহর এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই আইনি সংশোধনের মধ্য দিয়ে ভবন নির্মাণে কড়াকড়ি আরোপ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পথ আরও সুগম হবে। এর ফলে সাধারণ নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর সার্বিক পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কমিটির কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখতে বিশেষ কিছু বিধানও রাখা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে কমিটি নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সভা অনুষ্ঠিত হবে। কমিটির এই নমনীয়তা ও বহুমুখী কর্মপদ্ধতি নিশ্চিত করবে যে, নগর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, স্থপতি ও প্রকৌশলীদের মতামতও এই প্রক্রিয়ায় সমানভাবে গুরুত্ব পাবে। কমিটিকে দাপ্তরিক ও সাচিবিক সহায়তা দেবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, যা এই উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করবে। মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তদারকি ও সহায়তায় গঠিত এই কমিটির প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত নিখুঁত ও সময়োপযোগী উপায়ে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করেন।

সবশেষে এই প্রক্রিয়ার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল সম্পর্কেও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে এই সংশোধনীগুলো চূড়ান্ত আইনি রূপ লাভ করবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা কার্যকর করা হবে। রাজধানী ঢাকার দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা এবং একটি নান্দনিক ও পরিকল্পিত তিলোত্তমা নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ৩ মন্ত্রীর নতুন কমিটি এক ঐতিহাসিক ও মাইলফলক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত