বাঘাইছড়িতে অস্ত্র ও বিদেশি সিগারেট জব্দ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার
বাঘাইছড়িতে অস্ত্র ও বিদেশি সিগারেট জব্দ

প্রকাশ: ৩১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চোরাচালান রোধে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এক বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল মাঝিপাড়া এলাকায় বিজিবির বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড তাজা গুলি এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদকের পাশাপাশি অস্ত্র ও চোরাচালানের চালান প্রবেশের যে গোপন অপচেষ্টা চলছে, তা এই সফল অভিযানের মাধ্যমে আবারও উন্মোচিত হলো। সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অর্থাৎ বিজিবির মারিশ্যা ব্যাটালিয়নের সদস্যরা চরম পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং গোয়েন্দা দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এই অভিযান সফল করেছেন, যা স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায় যে, গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাতে বিজিবির মারিশ্যা ব্যাটালিয়নের কাছে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য কিছু গোয়েন্দা তথ্য এসে পৌঁছায়। ওই গোয়েন্দা তথ্যে সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয় যে, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সড়কের মাঝিপাড়া এলাকা দিয়ে ইয়াবা এবং বিদেশি সিগারেটের একটি বড় অবৈধ চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। এই গোপন সংবাদ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই বিজিবির মারিশ্যা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদের সরাসরি দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। এই দলের সঙ্গে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানসহ বিজিবির প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সদস্যরা যুক্ত হয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উক্ত সীমান্ত সড়কের মাঝিপাড়া ষোল কিলোমিটার এলাকায় অবস্থান নেন এবং গোপনীয়তা রক্ষা করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করেন।

অভিযানের তীব্রতা ও গোয়েন্দা নজরদারির মুখে রাত আনুমানিক দশটা পনেরো মিনিটের দিকে বিজিবির আভিযানিক দল দেখতে পায় যে, দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি হাতে ভারী ব্যাগ নিয়ে সন্দেহজনকভাবে ওই এলাকায় প্রবেশ করছে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তাদের চ্যালেঞ্জ করেন এবং আটকের চেষ্টা চালান। তবে অন্ধকারে রাতের সুযোগ নিয়ে এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডের চড়াই-উতরাই ও ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ওই দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ঘন পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অপরাধীরা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গেলেও তাদের বহন করা অবৈধ সামগ্রী ও অস্ত্র ফেলে যেতে বাধ্য হয়, যা পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে এবং এর আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা চষে ফেলে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি সাত দশমিক ছয় দুই মিলিমিটারের বিদেশি চায়না পিস্তল উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় সাত রাউন্ড তাজা গুলি এবং দশ কার্টুন অবৈধ বিদেশি সিগারেট, যা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের ভেতরে নিয়ে আসা হচ্ছিল। পাহাড়ি অঞ্চলে এই ধরনের মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদের উপস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। বিজিবির সময়োপযোগী এই অভিযানের কারণে একটি বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সম্ভাব্য সহিংসতা রোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। চোরাকারবারিরা এই অস্ত্র ব্যবহার করে পাহাড়ি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি কিংবা অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলো ব্যবহার করে অতীতেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ চক্র সক্রিয় থাকার ইতিহাস রয়েছে। মাদকের চোরাচালানের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র এবং বিভিন্ন কর ফাঁকি দেওয়া বিদেশি পণ্যের কারবার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সবসময়ই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। বাঘাইছড়ির মাঝিপাড়া এলাকার এই সফল অভিযান প্রমাণ করে যে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক কতটা শক্তিশালী এবং কার্যকর। পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তি বা চক্রটিকে শনাক্ত করতে এবং এর নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত