প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতার সংস্কৃতি আবারও এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে ঘটা ন্যাক্কারজনক হামলা এবং নৃশংসতার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাকে উত্তপ্ত করে এক শক্তিশালী মশাল মিছিল করেছে দলটি। বিশেষ করে হবিগঞ্জে জাতীয় ছাত্রশক্তির সম্ভাবনাময় তরুণ নেতা আলিফ চৌধুরীর ওপর চালানো বর্বরোচিত হামলায় তাঁর একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাটি পুরো দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এই अমানবিক হামলা, রাজনৈতিক দমনে পেশিশক্তির ব্যবহার এবং বাকস্বাধীনতার ওপর নেমে আসা কালো ছায়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর রাজপথে নেমে আসে জাতীয় নাগরিক পার্টির শত শত নেতাকর্মী। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখরিত এই প্রতিবাদ মিছিলটি রাজধানী ঢাকার রাজপথে এক অন্যরকম রাজনৈতিক বার্তার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবাদ ও ক্ষোভের এই বিস্ফোরণ ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাতের নিস্তব্ধতাকে চিরে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা বাংলামোটর মোড় থেকে এক বিশাল মশাল মিছিলের সূচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। মিছিলের অগ্রভাগে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রভাবশালী দায়িত্বশীলরা এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সুশৃঙ্খলভাবে নেতৃত্ব দেন। হাতে প্রজ্বলিত মশাল নিয়ে নেতাকর্মীরা যখন বাংলামোটর থেকে শাহবাগের অভিমুখে এগিয়ে যান, তখন পুরো রাজপথ এক প্রতিবাদী স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বয়সের ও স্তরের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই মিছিলটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সুশৃঙ্খল কিন্তু অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা এই মশাল মিছিলটি শেষ পর্যন্ত রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগ মোড়ে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
মিছিল চলাকালীন সময়ে নেতাকর্মীদের মুখে উচ্চারিত স্লোগানগুলোতে মূলত বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও তরুণ নেতৃত্বের ওপর চলা নির্মমতার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার ফুটে ওঠে। মিছিল থেকে অত্যন্ত জোরালোভাবে ‘আলিফ চৌধুরীর চোখ ফিরিয়ে দে’ স্লোগান বারবার উচ্চারিত হতে থাকে, যা উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মনেও গভীর মানবিক অনুভূতির জন্ম দেয়। একজন তরতাজা রাজনৈতিক কর্মীর ওপর এমন নৃশংস আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে স্লোগানে ও বক্তব্যে ফুটিয়ে তোলা হয়। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এই বর্বরোচিত হামলার জন্য সরাসরি তীব্র ভাষায় প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক উপায়ে মোকাবিলা করার সাহস হারিয়ে একটি বিশেষ মহল এখন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে এবং হামলার পথ বেছে নিয়েছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
হবিগঞ্জের ওই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে থাকা প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, দেশজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় বিরোধী মতের ওপর হামলার এই প্রবণতা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। ছাত্রনেতা আলিফ চৌধুরীর ওপর হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, এটি দেশের উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের মুক্তচিন্তা ও রাজনৈতিক অধিকারের ওপর এক সরাসরি আঘাত। এই হামলার তীব্রতার কারণে আলিফ চৌধুরী তাঁর একটি চোখ চিরতরে হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়েছেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের এক অপূরণীয় ট্র্যাজেডি। এই অমানবিক ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করেছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বুকে এই প্রতিবাদী মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই মশাল মিছিলটি প্রমাণ করে যে, এনসিপির নেতাকর্মীরা অন্যায় ও সহিংসতার কাছে সহজে মাথা নত করবে না। শাহবাগ মোড়ে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, হামলা ও মামলা দিয়ে তরুণ প্রজন্মের অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনকে কোনোভাবেই স্তব্ধ করা যাবে না। যদি অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে দেশব্যাপী আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। রাজনীতির মাঠে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও সহনশীলতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সকল মহলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আহত ছাত্রনেতা আলিফ চৌধুরীসহ সকল নির্যাতিত নেতাকর্মী ন্যায়বিচার পাবেন– এই প্রত্যাশাই এখন দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে।