প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে প্রায়ই অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। এমনি এক গুরুত্বপূর্ণ পটভূমিতে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতাধীন অত্যন্ত স্পর্শকাতর আশুলিয়া সেতু অপসারণের প্রাথমিক ও প্রস্তুতিমূলক কাজ জোরেশোরে শুরু হওয়ায় এই নৌপথে চলাচলকারী সকল প্রকার নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত কড়া ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআইডব্লিউটিএ। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রক্ষায় নিয়োজিত তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্যান্য সকল বড় ও ভারী নৌযানকে এখন থেকে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত অভিজ্ঞ পাইলটের সহায়তা ছাড়া কোনো অবস্থাতেই এই বিপজ্জনক নৌপথ অতিক্রম না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের সামগ্রিক নৌপরিবহন খাতের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যেই এই বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের নৌপথ শাখা থেকে জারি করা এই বিশেষ নৌ-সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে পুরো এলাকার বর্তমান বাস্তব চিত্র ও সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোর কথা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে চলমান ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে আশুলিয়া সেতুর ভাটিতে নদীর উভয় পাড়ে অত্যন্ত ভারী পাইল স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় স্টেজিং নির্মাণের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে এই বিশাল নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন করার জন্য নিয়োজিত ড্রেজারসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী কর্মযান ও ভাসমান ক্রেন নৌপথের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করায় স্বাভাবিক নৌচ্যানেলটি এখন আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে অনেকটাই সংকীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকযুক্ত হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে চ্যানেলটি সরু হয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন নিয়মিত নৌচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং চালকদের জন্য এটি এক বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
এই পরিবর্তিত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে নৌচলাচলে যে ভয়াবহ ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে, তার বিশদ বিবরণ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, বিশেষ করে তেলবাহী বিশাল ট্যাংকার এবং অন্যান্য ভারী নৌযানগুলোর পক্ষে এই সংকীর্ণ চ্যানেলে নিরাপদে মোড় নেওয়া এবং সম্পূর্ণ এলাকাটি ঝুঁকিমুক্তভাবে অতিক্রম করা এখন অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরু হয়ে যাওয়া চ্যানেলে নদীর স্বাভাবিক স্রোতের গতি ও পানির অতিরিক্ত চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে চালকদের পক্ষে অনেক সময় নৌযানের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি কুয়াশা বা অন্য কোনো কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়া, নদীর পানির নিচে বা আশপাশে নতুন স্থাপিত পাইল কিংবা স্টেজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটার আশঙ্কা এবং যেকোনো মুহূর্তে নৌযানের চালনক্ষমতা বা স্টিয়ারিং হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। এই সমস্ত বাস্তব দিক বিবেচনা করেই নৌচলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এহেন উদ্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যা মেনে চলা সকল নৌযানের মালিক ও চালকদের জন্য অপরিহার্য। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আশুলিয়া সেতু পুরোপুরি অপসারণের কাজ শেষ হওয়ার পর এবং এই নৌপথ পুনরায় আগের মতো সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সচল না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি নৌযানকে অবশ্যই বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত অভিজ্ঞ পাইলট সঙ্গে নিয়ে এবং নির্দিষ্ট ড্রাফট বা গভীরতার মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। কোনোভাবেই এই নির্দেশ অমান্য করে খামখেয়ালিভাবে নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। এর পাশাপাশি প্রতিটি নৌযান পরিচালনার দায়িত্বে অবশ্যই দক্ষ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত নাবিক বা অভিজ্ঞ ড্রাইভার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়া বা ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত নৌযান নিরাপদ কোনো তীরে ভিড়িয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নৌযানের নিজস্ব নিরাপত্তা এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধে রাতে বা কম দৃশ্যমানতার সময় নৌযানে অবশ্যই পর্যাপ্ত ও নিয়মমাফিক বাতি জ্বালানো, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ফগ সিগন্যাল ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে ঘন ঘন ঘণ্টা বাজিয়ে আশপাশের নৌযানগুলোকে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করার মতো অতি জরুরি নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রধান এই নৌপথে প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় নৌযান চলাচল করে থাকে এবং সামান্যতম অবহেলার কারণে ঘটা দুর্ঘটনা পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। তাই বিআইডব্লিউটিএর এই বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযান চালক ও মালিকদের মাঝে এক ধরনের বাড়তি সতর্কতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারের মেগা প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই প্রচেষ্টায় নৌপরিবহন খাতের সকল স্তরের মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন এবং নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলবেন বলেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সচেতন মহল আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করছে।