সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে: জামায়াত আমীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার
সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে: জামায়াত আমীর

প্রকাশ: ৩১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা ধরনের অস্থিরতা, জনজীবনের ক্রমবর্ধমান সংকট এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতা নিয়ে এবার অত্যন্ত কঠোর ও সরাসরি সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ড. শফিকুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বর্তমান বিএনপি সরকার সার্বিকভাবে দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে, যার ফলে জনগণের মনে নানামুখী শঙ্কা ও হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের আপামর জনসাধারণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক মুক্তি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ সুগম করার পরিবর্তে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম জনকল্যাণ থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারোটার সময় ঐতিহাসিক জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে অত্যন্ত জোরালো ও সুদূরপ্রসারী বক্তব্যে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার ঝড় তুলেছে।

বর্তমান ফ্যাসিবাদমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পটভূমি ও এর প্রকৃত মালিকানার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, আজকের এই ফ্যাসিবাদমুক্ত ও মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কিংবা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর একক কোনো রাজনৈতিক অর্জন বা একক কোনো কৃতিত্ব নয়। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও অধিক সময় ধরে চলা দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা ১৮ কোটি মুক্তিকামী মানুষের সম্মিলিত রক্তস্রোত, ত্যাগ ও অবিস্মরণীয় গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুতরাং, এই বিশাল অর্জনকে কোনো একক দল বা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের দলীয় সম্পত্তি বা একক অবদান হিসেবে দাবি করতে পারে না। দেশের আপামর মেহনতি মানুষ ও ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছে, তাই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সেই ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি কঠোর তাগিদ প্রদান করেন।

দেশের তরুণ সমাজ ও কর্মক্ষম যুবশক্তিকে নিয়ে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান অত্যন্ত কড়া ভাষায় বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার প্রাক্কালে দেশের বেকার যুবকদের লাখ লাখ সম্মানজনক চাকরি দেওয়ার নানামুখী আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের বিষয় হলো, সেই প্রতিশ্রুতি আজ পুরোপুরি কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বাস্তবে যুবসমাজকে কর্মসংস্থান বা উন্নত ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক, বাজারঘাট এবং জনবহুল এলাকার মোড়ে মোড়ে নতুন করে চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজ বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। যুবকদের হাতে ফলপ্রসূ কলম বা কাজের সুযোগ তুলে না দিয়ে দলীয় প্রভাবে একশ্রেণির বিপথগামী তরুণকে অন্ধ সহিংসতার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অ্যালার্মিং বার্তা বহন করছে বলে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পরিবহন খাতের অবহেলিত শ্রমিকদের অধিকার এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার নানা বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে ড. শফিকুর রহমান বলেন যে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পরিবহন শ্রমিকরা দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলেছেন, অথচ তাঁদের ঘাম ঝরানো আয়ের সিংহভাগই আজও বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের পকেটে চলে যায়। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে এই মেহনতি মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তনের কথা কেবল রাজনৈতিক বুলি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বাস্তবে তাঁদের কল্যাণে কোনো স্থায়ী বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক মর্যাদা সবার আগে নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব হলেও বর্তমান প্রশাসন সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। পরিবহন খাতের ভেতরের এই দীর্ঘমেয়াদী নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার জন্য তিনি অবিলম্বে কার্যকর ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানান।

সম্মেলনে উপস্থিত হাজার হাজার পরিবহন শ্রমিকের উদ্দেশে জামায়াতের আমীর আরও বলেন যে, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক আধিপত্য বা অন্যায় সিদ্ধান্ত জনগণ আর বেশি দিন মুখ বুজে সহ্য করবে না। যারা জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করে এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে ব্যর্থ হয়ে কেবল নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের সব মেহনতি মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে মহান ব্রত নিয়ে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দেশের এই ক্রান্তিকাল উত্তরণে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ এই বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত