খোকসায় পরিচয় নিশ্চিত করে বিএনপি নেতার ওপর হামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮ বার
খোকসায় পরিচয় নিশ্চিত করে বিএনপি নেতার ওপর হামলা
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন, লোমহর্ষক ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো এলাকাসহ দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত বুধবার রাতে খোকসা পৌরসভার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আসন্ন পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নাফিজ আহমেদ খান রাজুর ওপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। নিজের দলীয় কার্যালয় থেকে সারাদিনের রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক কাজ শেষে অত্যন্ত ক্লান্ত শরীরে নিজ বাসভবনে ফেরার পথেই এই বর্বরোচিত আক্রমণের শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তার পথরোধ করে এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার পরিচয় নিশ্চিত করার পরপরই অতর্কিতভাবে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত এই পৈশাচিক ঘটনাটি স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে, গত বুধবার রাতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে নাফিজ আহমেদ খান রাজু তাঁর দলীয় রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সমস্ত কাজ শেষ করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই কুষ্টিয়ার খোকসা থানাপাড়া এলাকার নিজ বাসভবনের গেটের সামনে এসে পৌঁছান। এ সময় ওত পেতে থাকা অপরিচিত পাঁচ থেকে ছয়জন দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে। রাজু নিজের বাড়ির সামনে অপরিচিত লোকজনকে দেখে স্বভাবসুলভভাবেই তাদের পরিচয় জানতে চান এবং আগন্তুকরা কে বা কারা তা নিশ্চিত করতে চান। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, আগন্তুক সন্ত্রাসীরা উল্টো তাঁর নাম ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো ধরনের কথাবার্তা না বলে অতর্কিতভাবে ধারালো চাপাতি ও ভারী লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাঁর ওপর নৃশংস আক্রমণ শুরু করে। আকস্মিক এই আক্রমণে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি আঘাত হানতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা ধারালো চাপাতির তীব্র কোপে নাফিজ আহমেদ খান রাজুর পায়ের নিচের অংশসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মারাত্মক জখম ও গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া লোহার হাতুড়ি ও রডের বেধড়ক পেটানি ও আঘাতে তাঁর সারা শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার শুরু করলে তাঁর ডাক শুনে পরিবারের সদস্যরা এবং আশেপাশের ঘরবাড়ি থেকে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। সাধারণ মানুষ ও স্বজনদের এগিয়ে আসতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সন্ত্রাসীরা। এলাকাটায় চরম ত্রাস সৃষ্টি করতে এবং নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা মুহূর্তের মধ্যে শূন্যে একের পর এক প্রায় ষোল থেকে সতেরো রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে এবং পরপর তিনটি শক্তিশালী ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। বিকট শব্দে ককটেলের বিস্ফোরণ ও গুলির আওয়াজে পুরো থানাপাড়া এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির তাণ্ডব চালিয়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত প্রস্তুত রাখা মোটরসাইকেলে চেপে ঘটনাস্থল থেকে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা সটকে পড়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সাহসী মানুষেরা গুরুতর আহত অবস্থায় নাফিজ আহমেদ খান রাজুকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে স্থানীয় খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন দেখতে পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সেই রাতেই আনুমানিক বারোটার দিকে তাঁকে অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে তাঁর চিকিৎসা সেবা শুরু করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এই জনপ্রিয় নেতা, আর তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি দেখে স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় অত্যন্ত দুর্বল ও ব্যথাতুর শরীরে ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে নাফিজ আহমেদ খান রাজু জানান যে, বাড়ির প্রধান গেটের সামনে অচেনা লোকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি কৌতূহলী হয়ে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা উল্টো তাঁর নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতেই মুহূর্তের মধ্যে দানবের মতো চাপাতি ও লোহার রড-হাতুড়ি নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে আঘাত হানতে থাকে। তিনি আরও জানান যে, তাঁর আর্তচিৎকার শুনে যখন পরিবারের লোকজন এবং প্রতিবেশীরা ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন, তখন সন্ত্রাসীরা নিজেদের রক্ষা করতে এবং এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করতে একের পর এক ককটেল ফাটায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে ছুড়তে অন্ধকার রাতের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। প্রকাশ্য রাতে জনবহুল এলাকায় এমন ফিল্মি কায়দায় অস্ত্র উঁচিয়ে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় খোকসার সার্বিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।
এদিকে, এই পৈশাচিক ও চাঞ্চল্যকর হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশের পক্ষ থেকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সত্যতা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতার ওপর এই হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকা দুর্বৃত্তদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য এবং তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে পুলিশের বিভিন্ন টিম জোরদার অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত