হাসিনাকে সুযোগ দিয়ে সার্বভৌমত্বে আঘাত: রিজভী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার
হাসিনাকে সুযোগ দিয়ে সার্বভৌমত্বে আঘাত: রিজভী
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ক্ষমতাচ্যুত ও আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানের সুযোগ করে দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, দেশের আইন ও আদালতের সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার পরেও একজন পলাতক আসামিকে ফিরিয়ে না দিয়ে উল্টো তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা মূলত বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি এক চরম অবমাননা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মহান শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মন্তব্যটি করে তিনি বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের এমন উদাসীন ও দ্বিমুখী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আস্থার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক চন্দ্রিমা উদ্যানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ তথা ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির নানা অস্বস্তিকর দিক অত্যন্ত জোরালোভাবে ফুটে ওঠে। এ সময় ড্যাবের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, যারা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারের কঠোর অবস্থান ও কূটনৈতিক সাফল্যের পক্ষে নিজেদের দৃঢ় ঐক্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী তাঁর বক্তব্যে শেখ হাসিনার আইনি ও পলাতক অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, তিনি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং আইনের দৃষ্টিতে একজন পলাতক আসামি। বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ, চাঞ্চল্যকর খুন এবং পাহাড়সম দুর্নীতির একাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর সাজা ঘোষণা করা হয়েছে এবং অন্যান্য অসংখ্য মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না হয়ে তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি বিদেশি রাষ্ট্রে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, যে দেশটি তাকে আশ্রয় দিয়েছে, সেই ভারত সরকার অত্যন্ত উদ্দেশ্যমূলক ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে এই ধরনের জনসম্মুখে বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দিয়েছে, যা কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিএনপির এই শীর্ষস্থানীয় নেতা আরও বলেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্বাক্ষরিত বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক এই আসামিকে অবিলম্বে বাংলাদেশের হাতে আইনগতভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দফায় দফায় আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এতদ্‌সত্ত্বেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কোনো চিঠির সন্তোষজনক বা আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব প্রদান করা হয়নি। প্রত্যর্পণ চুক্তির স্বাভাবিক নিয়ম ও সম্মান রক্ষা না করে উল্টো তাকে রাজনৈতিক বা গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার প্রকাশ্য মঞ্চ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টতই দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সার্বভৌম বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল। প্রতিবেশীসুলভ আচরণ পরিহার করে এই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
দেশের বর্তমান জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম ও সরকারের সার্বিক সফলতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী জানান যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে। দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত গ্যাস সংকট, বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ যেমন ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাবের মতো প্রতিটি জরুরি জনকল্যাণমূলক সংকট মোকাবিলায় সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সাহসিকতার সঙ্গে রাতদিন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের এই জনহিতকর কর্মকাণ্ড এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পরাজিত শক্তি ও কুচক্রী মহল সবসময় মরিয়া হয়ে উঠেছে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ও তাদের দেশি-বিদেশি দোসররা সরকারকে যেকোনো মূলੇ ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের গোপন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলেছে, যা দেশের সাধারণ মানুষ অতীতেও যেভাবে রুখে দিয়েছিল, এবারও তা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত