বাংলাদেশে চালু হলো থাই কফি চেইন ক্যাফে আমাজন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার
বাংলাদেশে চালু হলো থাই কফি চেইন ক্যাফে আমাজন
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক কফি চেইন ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ক্যাফে আমাজন’ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দুর্দান্ত বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় কফিপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজধানীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল লোকেশনে যুগপৎভাবে এই ব্র্যান্ডটির গ্র্যান্ড লঞ্চ সম্পন্ন হয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং জনপ্রিয় কেনাকাটার কেন্দ্র বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে জোড়া ভেন্যুতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বমানের এই কফি শপের শুভ উদ্বোধন করা হয়, যা দেশের ফাস্ট-ফুড ও ক্যাফে সংস্কৃতিতে এক নতুন ও আধুনিক মাত্রা যোগ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার দুটি পৃথক ও বর্ণিল ভেন্যুতে দিনব্যাপী এই উদ্বোধনী আয়োজনের নানা আকর্ষণীর পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়। উদ্বোধনী দিনের অত্যন্ত জমজমাট প্রথম পর্বটি সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শুরু হয় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ক্যাফে আমাজনের সর্বাধুনিক ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে। এই বিশেষ এবং মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের দূতাবাসের সম্মানিত প্রতিনিধিরা, পিটিটি সিয়ামের শীর্ষস্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সমবেত অতিথিদের উপস্থিতিতে যৌথভাবে ফিতা কেটে ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটির আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের মাটিতে থাইল্যান্ডের আসল কফির সুবাস ছড়াতে শুরু করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পর্বটি আয়োজিত হয় রাজধানীর অন্যতম প্রধান বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের প্রাঙ্গণে, যা বিকেল ৩টায় শুরু হয়। সাধারণ কফিপ্রেমী ও উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড়ে এই দ্বিতীয় পর্বটি এক অন্যরকম উৎসবে পরিণত হয়। এই পর্বে সাধারণ দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের জন্য থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নানা ধরনের বিনোদনমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছিল, যা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। আন্তর্জাতিক মানের এই কফি শপ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঢাকার তরুণ সমাজসহ সব বয়সের কফিপ্রেমীরা এখন থেকে কোনো বিদেশভ্রমণ ছাড়াই দেশেই খাঁটি থাই কফির মনমাতানো স্বাদ ও সুবাস উপভোগ করতে পারবেন বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০০২ সালে থাইল্যান্ডের মাটিতে যাত্রা শুরু করা ‘ক্যাফে আমাজন’ বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয়, বিশ্বস্ত এবং অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল একটি বৃহৎ কফি চেইন ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রাকৃতিকভাবে সজ্জিত ও সবুজ পাতার আবহে ঘেরা নান্দনিক আউটলেট এবং অত্যন্ত সতেজ কফির অসাধারণ স্বাদের জন্য এই বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডটি বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার সফল আউটলেটের মাধ্যমে এই ব্র্যান্ডটি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সেবা প্রদান করে আসছে। এখন বাংলাদেশের কফিপ্রেমী ও তরুণ প্রজন্মের মানুষেরা আন্তর্জাতিক এই মানসম্পন্ন সেবা ও বৈচিত্র্যময় কফির স্বাদ সরাসরি নিজ দেশেই উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের হাত ধরে আন্তর্জাতিক মানের এই বিশ্বখ্যাত কফি অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছে, যা দেশের আধুনিক ব্যবসায়িক ও আতিথেয়তা খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই কফি চেইনটি চালুর ফলে দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক বার্তা প্রবাহিত হবে। আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে অভ্যস্ত ঢাকাবাসী ও ভ্রমণপিপাসুরা এখন মানসম্মত আড্ডা এবং কাজের ফাঁকে প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে এই ক্যাফেগুলোতে ছুটে আসছেন। নান্দনিক পরিবেশ, চমৎকার আপ্যায়ন এবং বিশ্বমানের কফির সুবাসে মুখরিত ক্যাফে আমাজনের প্রতিটি শাখা খুব শীঘ্রই নগরবাসীর অন্যতম পছন্দের আড্ডা ও বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত