দেশে ফিরলে হাসিনাকে যেতে হবে জেলে: সোহেল তাজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬ বার
দেশে ফিরলে হাসিনাকে যেতে হবে জেলে: সোহেল তাজ
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ পরিচিত মুখ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। গত বুধবার ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি অত্যন্ত কড়া ও বিশ্লেষণাত্মক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, দেশত্যাগ করে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি কখনো পুনরায় দেশে ফিরে আসার দুঃসাহস দেখানও, তবে তিনি কোনো অবস্থাতেই আর রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করতে পারবেন না; বরং তাঁর একমাত্র নির্দিষ্ট ঠিকানা হবে সরাসরি কারাগার। তাঁর এই সাহসী ও স্পষ্টভাষী মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ অত্যন্ত তীব্র ভাষায় প্রশ্ন রেখে বলেন যে, ইদানীং বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে যে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে চরম জনরোষের শিকার হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া শেখ হাসিনা নাকি আবারও বাংলাদেশে ফিরে আসার দিবা স্বপ্ন দেখছেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, একজন মানুষ কতটা নির্লজ্জ ও বেহায়া হলে নিজের দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত সমস্ত অপকর্ম, মানবতাবিরোধী অপরাধ, ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম গণহত্যা, বিরোধী মত দমনে গুম ও খুন, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, গণতন্ত্রের কবর রচনা, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চরমভাবে অপব্যবহার করা, দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা, নিজের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া এবং দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার মতো গুরুতর অপরাধগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারেন। সমস্ত অপরাধের পরেও কোনো ধরনের অনুশোচনা না করে উল্টো সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
নিজের ভুল বা অপরাধ স্বীকার করার ন্যূনতম সৎসাহস কিংবা নিজের কুকর্মের জন্য কোনো ধরনের আত্মসমালোচনা না করে শেখ হাসিনা এখনও একটি কাল্পনিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব প্রচার করে চলেছেন বলে অভিযোগ করেন সোহেল তাজ। তিনি বলেন যে, এই ধরনের অবাস্তব ও অন্ধ তত্ত্বের ওপর ভর করে তিনি কেবল আওয়ামী লীগ দলটিকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন না, বরং দেশের সাধারণ মানুষকেও পুনরায় এক অনিশ্চিত ও অন্ধকারের ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়ার হীন চক্রান্ত করছেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো বর্বরোচিত স্বৈরশাসকদের ক্ষমতা হারিয়ে দেশত্যাগের পর পুনরায় ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার নজির বা সম্ভাবনা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। পৃথিবীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে খুব বিরল কিছু ব্যতিক্রম ঘটনা বাদ দিলে স্বৈরাচারদের এমন করুণ পরিণতি থেকে ফিরে আসার কোনো পথ থাকে না।
ইতিহাসের বিভিন্ন কালপর্বের উদাহরণ টেনে সোহেল তাজ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব ইতিহাসের দীর্ঘ যাত্রায় মাত্র তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতা হারিয়েও সফলভাবে পুনরায় ফিরে আসতে পেরেছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম জন ছিলেন ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের গুইতালিও ভার্গাস, দ্বিতীয় জন ৭০৫ সালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সম্রাট জাস্টিনিয়ান দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জন আঠারো শতকের মধ্যভাগে মেক্সিকোর আন্তোনিও লোপেজ ডি সান্তা আনা। তবে এই ঐতিহাসিক উদাহরণগুলো টানার পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে এই সত্যটিও স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই তিন শাসককে মূলত সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, যা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও রক্তক্ষয়ী কোনো গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ঘটেছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে, যেখানে দেশের সাধারণ জনগণ ও ছাত্র-সমাজ একটি রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য করেছিল এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
দেশের মানুষ এবং জুলাই আন্দোলনের সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন যে, কখনোই এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, তাঁর সরাসরি প্রত্যক্ষ নির্দেশেই আন্দোলনরত শিশুসহ শত শত নিরীহ মানুষকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশের গুলিতে ও সহিংসতায় সে সময় প্রায় ছয় শতাধিক মানুষ চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেছেন এবং হাজার হাজার সাধারণ ছাত্র-জনতা চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ দেশের জনগণের রক্তে যাঁদের হাত রাঙা, তাঁরা কস্মিনকালেও পার পেয়ে যেতে পারেন না। দেশের মাটি থেকে এত বড় একটি নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার পর যারা বিদেশে বসে পুনরায় ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই স্বপ্ন কোনোদিনই সফল হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্বাধীন এই বাংলাদেশে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং তারা দেশে ফিরলে জনগণের সামনে জবাবদিহিতা ও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত