প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় সংঘটিত অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। জীবিকার তাগিদে সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমানো এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে তাদের নিজ নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া মোট ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জনই আমাদের দেশের উত্তর অঞ্চলের নওগাঁ ও নাটোর জেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে একাই ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার বিভিন্ন গ্রামের। বাকিদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গা থানার দুজন এবং রাজশাহীর বাগমারা থানার একজন কর্মী রয়েছেন। মর্মান্তিক এই সংবাদটি পৌঁছানোর পর থেকেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা, পরিবারগুলোর বুকফাটা কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশের আকাশ-বাতাস।
সৌদি আরব এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে রিয়াদের ব্যস্ততম শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় অবস্থিত একটি সোফা কারখানায় হঠাৎ করেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। কারখানাটিতে সার্বিক কার্যক্রমে মোট ১৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। আকস্মিক আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ১৬ জনই কারখানার ভেতরে আটকা পড়েন এবং আগুনে পুড়ে ও অতিরিক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের করুণ মৃত্যু ঘটে। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছেন হাবিবুর রহমান নামের এক বাংলাদেশি কর্মী। ঘটনার সময় তিনি চুল কাটার জন্য সেলুনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কারখানার বাইরে অবস্থান করছিলেন। বাইরে থাকায় তিনি এই মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন, তবে সহকর্মীদের এমন নির্মম পরিণতি তাকে মারাত্মক মানসিক আঘাত ও গভীর শোকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র লড়াই ও উদ্ধার অভিযানের পর স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সহযোগিতায় রাত আটটার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে রাত এগারোটার দিকে হতাহতদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে কিং সৌদ হাসপাতালের মর্গে স্থানান্তরিত করা হয়। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে এবং মর্গ পরিদর্শনের সময় রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে নিহতদের উদ্ধার ও সার্বিক সহযোগিতায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেন সায়েখ আফতাবউদ্দিন ফারুক। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলর মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী গণমাধ্যমের কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও পরিচয় শনাক্তকরণের পর মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসীদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার উজানপই গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, গণ্ডগোহালী গ্রামের মো. রুবেল প্রামাণিক, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন ও মো. সুমন, মিনহাজ, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন, খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল ও মজিদুল এবং সাদনগর গ্রামের সাগর রয়েছেন। এছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের শামিম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ডাংগাপাড়া গ্রামের শ্যামলও এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। একই কারখানায় কর্মরত নওগাঁ ও নাটোরের এই তরুণদের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে তাদের পরিবারগুলো এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বহু কষ্টে ঋণ করে কিংবা জমি বিক্রি করে বিদেশে পাঠানো সন্তান বা স্বজনের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিহতদের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দূতাবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা শুরু থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্তকরণ এবং স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকেও পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রবাসীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বিদেশে অবস্থিত কারখানাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি থাকা অত্যন্ত জরুরি। পরবাসের মাটিতে ঘাম ঝরাতে গিয়ে উত্তরবঙ্গের এই তরুণদের মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো জাতিকে গভীর শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।
সৌদি আরব এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে রিয়াদের ব্যস্ততম শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় অবস্থিত একটি সোফা কারখানায় হঠাৎ করেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। কারখানাটিতে সার্বিক কার্যক্রমে মোট ১৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। আকস্মিক আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ১৬ জনই কারখানার ভেতরে আটকা পড়েন এবং আগুনে পুড়ে ও অতিরিক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসলাভের পথ বন্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের করুণ মৃত্যু ঘটে। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছেন হাবিবুর রহমান নামের এক বাংলাদেশি কর্মী। ঘটনার সময় তিনি চুল কাটার জন্য সেলুনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কারখানার বাইরে অবস্থান করছিলেন। বাইরে থাকায় তিনি এই মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন, তবে সহকর্মীদের এমন নির্মম পরিণতি তাকে মারাত্মক মানসিক আঘাত ও গভীর শোকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র লড়াই ও উদ্ধার অভিযানের পর স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সহযোগিতায় রাত আটটার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে রাত এগারোটার দিকে হতাহতদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে কিং সৌদ হাসপাতালের মর্গে স্থানান্তরিত করা হয়। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে এবং মর্গ পরিদর্শনের সময় রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে নিহতদের উদ্ধার ও সার্বিক সহযোগিতায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেন সায়েখ আফতাবউদ্দিন ফারুক। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলর মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী গণমাধ্যমের কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও পরিচয় শনাক্তকরণের পর মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসীদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার উজানপই গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, গণ্ডগোহালী গ্রামের মো. রুবেল প্রামাণিক, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন ও মো. সুমন, মিনহাজ, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন, খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল ও মজিদুল এবং সাদনগর গ্রামের সাগর রয়েছেন। এছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের শামিম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ডাংগাপাড়া গ্রামের শ্যামলও এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। একই কারখানায় কর্মরত নওগাঁ ও নাটোর অঞ্চলের এই তরুণদের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে তাদের পরিবারগুলো এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বহু কষ্টে ঋণ করে কিংবা জমি বিক্রি করে বিদেশে পাঠানো সন্তান বা স্বজনের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।