বরিশালে এসএসসিতে বেড়েছে পাসের হার, কমেছে জিপিএ-৫

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার বেড়েছে, তবে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

তবে পাসের হার বাড়লেও উচ্চ ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়েছে বোর্ডটি। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা কম। ফলে সামগ্রিক পাসের হারে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও জিপিএ-৫-এর পরিসংখ্যান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে নতুন করে ফলাফল বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করেছে।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. আবদুস সালাম। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোট ৮০ হাজার ৪৫৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৩৭ হাজার ৫৪৫ জন ছাত্র এবং ৪২ হাজার ৯১৩ জন ছাত্রী।

পরীক্ষা শেষে মোট ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৯৫৫ জন এবং ছাত্রী ২৮ হাজার ৬০০ জন। এই পরিসংখ্যান আবারও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে ছাত্রীদের তুলনামূলক ভালো অবস্থানকে সামনে এনেছে। পাসের সংখ্যায় যেমন ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে, তেমনি ফলাফলের সামগ্রিক চিত্রেও তাদের সাফল্য স্পষ্ট।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে পিরোজপুর। জেলার শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবার বোর্ডের সামগ্রিক চিত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তবে শুধু একটি জেলার ফলাফল দিয়ে পুরো বোর্ডের শিক্ষার মান বিচার না করে জেলার ভিত্তিতে ফলাফলের পার্থক্য, বিদ্যালয়ভিত্তিক সাফল্য এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের ফলাফলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো পাসের হার বৃদ্ধি। গত বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এবার তা বেড়ে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলাফলের এই উন্নতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে।

তবে পাসের হার বৃদ্ধির সঙ্গে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কমে যাওয়ায় ফলাফলের ভেতরে একটি ভিন্ন চিত্রও দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু কত শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে তা নয়, কতজন শিক্ষার্থী উচ্চতর গ্রেড অর্জন করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই জায়গায় জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

ফলাফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ছেলে ও মেয়েদের পারফরম্যান্সের পার্থক্য। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি ছিল। মোট ৪২ হাজার ৯১৩ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়, যেখানে ছাত্র ছিল ৩৭ হাজার ৫৪৫ জন।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও ব্যবধানটি স্পষ্ট। ২৮ হাজার ৬০০ ছাত্রী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, বিপরীতে উত্তীর্ণ ছাত্রের সংখ্যা ১৯ হাজার ৯৫৫। অর্থাৎ পাসের সংখ্যায় মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো এবারও বরিশাল অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষায় ছাত্রীদের ধারাবাহিক অগ্রগতি ফলাফলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে।

এই ফলাফল শুধু একটি পরীক্ষার পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো পরিবারের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। একজন শিক্ষার্থীর কাছে এসএসসি পরীক্ষা উচ্চশিক্ষার পথে যাওয়ার প্রথম বড় ধাপগুলোর একটি। ফলে পাসের হার বাড়া কিংবা জিপিএ-৫ কমে যাওয়া—দুই ধরনের পরিবর্তনেরই বাস্তব প্রভাব রয়েছে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে।

বিশেষ করে যারা এবার পাস করেছে, তাদের সামনে এখন কলেজে ভর্তি এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আর যারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তাদের জন্য এই ফলাফল হতাশার হলেও এটি শিক্ষাজীবনের শেষ নয়। এসএসসির ফলাফলের পর শিক্ষার্থীদের সামনে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ, পরবর্তী শিক্ষায় অংশগ্রহণ এবং নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পথ খোলা থাকে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফল তাই একদিকে অগ্রগতির বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার মান ও উচ্চতর ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে আরও কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে। পাসের হার ৬০ শতাংশের ওপরে ওঠা ইতিবাচক হলেও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। কোন বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে ভালো বা খারাপ করেছে, কোন ধরনের বিদ্যালয়ে ফলাফল বেশি উন্নত হয়েছে এবং কোথায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে রয়েছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে বোর্ডের ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতি ও সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।

এবারের ফলাফলে পিরোজপুরের এগিয়ে থাকা এবং ছাত্রীদের ধারাবাহিক সাফল্যও আলাদাভাবে গুরুত্ব পাওয়ার মতো। একই সঙ্গে অন্য জেলাগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শহর ও গ্রাম, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আর্থসামাজিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সুযোগের পার্থক্য কমানো গেলে সামগ্রিক ফলাফলে আরও টেকসই উন্নতি সম্ভব হতে পারে।

সব মিলিয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল মিশ্র বার্তা দিয়েছে। পাসের হার বেড়েছে, যা নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কিন্তু জিপিএ-৫ কমেছে, যা উচ্চতর একাডেমিক অর্জনের জায়গায় নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। আর ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করছে, বরিশালের মাধ্যমিক শিক্ষায় মেয়েরা নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছে।

এখন এই ফলাফলকে শুধু সাফল্য বা ব্যর্থতার হিসাব হিসেবে না দেখে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি হিসেবে দেখাই গুরুত্বপূর্ণ। পাসের হার বৃদ্ধিকে ধরে রেখে জিপিএ-৫সহ সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নত করা গেলে আগামী বছরগুলোতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড আরও শক্তিশালী ফলাফল উপহার দিতে পারে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত