ফল পুনঃনিরীক্ষণে খাতা সম্পূর্ণ পুনরায় মূল্যায়ন হবে

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর যেসব শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে সন্তুষ্ট নন, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সুযোগ থাকছে তাদের জন্য। আবেদন করা শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র সম্পূর্ণভাবে পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে পুনঃনিরীক্ষণের সময় কোনো ধরনের ভুলত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের সময় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ফল পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বোর্ডের ১৯৯৮ সালের আইনে খাতা পরিদর্শনের ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী মনে করলে তার ফলাফল বা নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে, তিনি নিয়ম অনুযায়ী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনঃপরীক্ষা করা হবে। কোথাও কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফল প্রকাশের দিন শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যে যেমন আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়, তেমনি প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশাও তৈরি হয়। বিশেষ করে কোনো একটি বিষয়ে প্রত্যাশার চেয়ে কম নম্বর পাওয়া কিংবা গ্রেড পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলে অনেক শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করে থাকেন। এ কারণে ফল পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগটি শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট।

এবার মোট ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।

ফলাফলের এই পরিবর্তনের কারণে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের আগ্রহ বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে যারা এক বা একাধিক বিষয়ে অল্প নম্বরের ব্যবধানে কাঙ্ক্ষিত গ্রেড থেকে পিছিয়ে পড়েছে, তাদের জন্য পুনঃনিরীক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে পুনঃনিরীক্ষণ বলতে সাধারণত উত্তরপত্রের প্রতিটি উত্তর নতুন করে শিক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা এবং নতুন করে নম্বর দেওয়ার বিষয়টি বোঝায় না। বরং নির্ধারিত নিয়মে খাতায় কোনো প্রশ্নের নম্বর দেওয়া বাদ পড়েছে কি না, নম্বর যোগে ভুল হয়েছে কি না, নম্বর সঠিকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াগত অসঙ্গতি রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনঃপরীক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে বিষয় ও পত্রভিত্তিক নিয়ম, আবেদন ফি এবং অন্যান্য শর্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।

এবারের ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমেছে। ফলে পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে একটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থীর সামগ্রিক সক্ষমতা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায় না বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

শিক্ষার্থীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফলাফল যাচাই করে পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা করা। যারা ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট, তারা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ভর্তি প্রস্তুতিতে এগিয়ে যেতে পারবে। আর যাদের মনে হচ্ছে ফলাফলে কোনো অসঙ্গতি থাকতে পারে, তারা নিয়ম মেনে পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ নিতে পারবে।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় ভুলত্রুটি সংশোধনের নিশ্চয়তা দেওয়ায় ফলাফল নিয়ে সংশয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ফল প্রকাশের পরপরই যেসব শিক্ষার্থী নিজেদের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করার সুযোগ থাকছে।

এদিকে এবারের ফলাফলের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর সামনে ফলাফল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি পরীক্ষার ফল একজন শিক্ষার্থীর পরবর্তী শিক্ষাজীবন ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নম্বর প্রদানের প্রতিটি ধাপে নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং কোনো ভুল হলে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনকারীদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনঃপরীক্ষার যে কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং এর ফলে কতসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, এবারের ফলাফলে কতটা সংশোধন প্রয়োজন হয়েছে এবং কতজন শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত