সর্বশেষ :

রাষ্ট্রপতি পদে ফখরুল, মহাসচিব হিসেবে রিজভী?

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ প্রশ্নকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে, তিনি রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব কে নেবেন। সেই সম্ভাব্য তালিকায় দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নামও সামনে এসেছে।

তবে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি নিজেই এমন খবরকে গুজব হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে বর্তমান আলোচনার মূল বিষয় দুটি। প্রথমত, রাষ্ট্রপতি পদে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেয়। দ্বিতীয়ত, মির্জা ফখরুলকে যদি সেই পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে দলটির মহাসচিবের দায়িত্বে কে আসবেন।

সাম্প্রতিক বক্তব্যে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম। দলীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মির্জা ফখরুলের নাম সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

তবে এ আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিক মনোনয়নের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় দলীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো একটি নাম নিয়ে আলোচনা জোরালো হওয়া মানেই সেই ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

এর মধ্যেই বিএনপির অভ্যন্তরে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে রুহুল কবির রিজভীর নাম এ আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিএনপির রাজনীতিতে রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিচিত সাংগঠনিক মুখ। সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব হিসেবে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংকটের সময়ে দলীয় কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক তৎপরতায় তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দলীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ পথচলাও এই আলোচনার অন্যতম কারণ। ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে উঠে আসা রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি নির্বাচিত হন। পরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

২০১৬ সালের বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে রিজভী সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়।

বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের কাছে রিজভীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিচয় হলো সংকটের সময়ে তার সক্রিয় থাকা। দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধ, মামলা ও গ্রেপ্তারের সময়েও তিনি দলীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেন।

বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে তার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। দলীয় নেতাদের অনেকে মনে করেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার কারণে রিজভী দলের সাংগঠনিক বাস্তবতা সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ভালো ধারণা রাখেন।

এই সাংগঠনিক যোগাযোগই তাকে মহাসচিব পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে রাখছে বলে বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে।

রিজভী নিজেও মহাসচিব পদ নিয়ে চলমান আলোচনাকে নিশ্চিত করেননি। দলীয় মূল্যায়ন ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপরই বিষয়টি নির্ভর করবে বলে তার বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও অতীতে মহাসচিব পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এসব নেতার রাজনৈতিক গুরুত্বও দলের ভেতরে যথেষ্ট। ফলে শেষ পর্যন্ত মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে একাধিক সমীকরণ রয়েছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন আসবে। কারণ রাষ্ট্রপতি পদটি দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। ফলে একজন দলীয় মহাসচিব রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

সেক্ষেত্রে বিএনপির নতুন মহাসচিবকে শুধু দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্বই পালন করতে হবে না, সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

এখানেই রুহুল কবির রিজভীর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা আলোচনায় আসছে। তার সমর্থকদের যুক্তি, দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কারণে তিনি দলীয় কাঠামোর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হতে পারেন।

তবে বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের মহাসচিব নির্বাচন কেবল একজন ব্যক্তির সাংগঠনিক জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে না। দলের চেয়ারম্যান, স্থায়ী কমিটি এবং অন্যান্য নীতিনির্ধারকের রাজনৈতিক বিবেচনাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক পদে নতুন ব্যক্তিকে বসানোর বিষয় নয়; এটি সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ফলে বিএনপি শেষ পর্যন্ত কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়, সেটি রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার বিষয়গুলো তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রাখছে। তবে একই সঙ্গে তার নিজের বক্তব্যও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে—তিনি এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবরকে নিশ্চিত করেননি এবং জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম।

অন্যদিকে, রুহুল কবির রিজভীর নাম মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় থাকলেও এটিও এখনো রাজনৈতিক অনুমান ও দলীয় পর্যায়ের আলোচনার অংশ। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে পরবর্তী মহাসচিব করার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের চেয়ে সম্ভাব্য রাজনৈতিক রদবদলের প্রস্তুতিপর্ব হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং এরপর দলীয় মহাসচিব নির্বাচন—দুই ঘটনাই একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন এবং বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে—এই দুই প্রশ্নের উত্তর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অমীমাংসিত। মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় সবচেয়ে বেশি থাকলেও তার নিজের বক্তব্যই বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। আর সেই সিদ্ধান্ত হলে দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের পরবর্তী অধ্যায়ে রুহুল কবির রিজভীর নাম কতটা সামনে আসে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত