সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শোক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শোক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত ভয়াবহ ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ষোলজন প্রবাসীর প্রাণহানির ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জীবিকার অন্বেষণে সুদূর প্রবাসে গিয়ে এমন এক হৃদয়বিদারক ও আকস্মিক দুর্ঘটনায় এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার সংবাদে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এক শোকবার্তায় তারা নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এই অপূরণীয় ক্ষতি ও চরম শোকের মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থেকে সব ধরনের সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন দায়িত্বশীল এই দুই মন্ত্রী।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল রবিবার গভীর রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত সোফা তৈরির ওই কারখানায় হঠাৎ করেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। কারখানার ভেতরে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিকে ঘন কালো ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি করে। রাতের বেলা কারখানার ভেতরে বিশ্রামে থাকা বা কর্মরত অবস্থায় অসতর্কতা কিংবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট ওই আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই ষোলজন বাংলাদেশি শ্রমিক মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। বিদেশি মাটিতে এ ধরনের একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং এত বড় প্রাণহানির খবর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশে থাকা নিহতদের পরিবারগুলোতে কান্নার রোল পড়ে যায়। স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার বাতাস।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনৈতক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহতদের পরিচয় নির্ভুলভাবে শনাক্তকরণ, তাদের মরদেহগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং দেশে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সৌদি প্রশাসনের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ও সমন্বিত উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে এবং রিয়াদ দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। প্রবাসীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি এবং নিহতদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যায়, সে বিষয়েও জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত ভয়াবহ ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ষোলজন প্রবাসীর প্রাণহানির সংবাদে গোটা দেশজুড়ে গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং উন্নত জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমানো হতভাগ্য এই মানুষগুলো জীবিকার তাগিদে যে কারখানায় কঠোর পরিশ্রম করতেন, আজ সেই কর্মক্ষেত্রই তাদের জন্য চিরকালের মতো কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার সংবাদে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এক যৌথ শোকবার্তায় তারা নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তাদের শোকাচ্ছন্ন পরিবারের সদস্যদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। এই অপূরণীয় ক্ষতি ও জীবনের সবচেয়ে কঠিন এই শোকের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে সরকারিভাবে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গতকাল রবিবার গভীর রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি ঘনবসতিপূর্ণ বা শিল্পাঞ্চল এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় হঠাৎ করেই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণে ফোম, তুলি, কাঠ এবং আটার মতো অতি দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বা জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। লেলিহান শিখা নিমেষেই পুরো কারখানাকে গ্রাস করে ফেলে এবং চারপাশে বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে দম বন্ধ করা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। রাতের বেলা কারখানার ভেতরে অবস্থানরত ও ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা কিংবা কাজের শেষ মুহূর্তে আটকা পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকেরা আগুনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাননি। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে এবং অতিরিক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ষোলজন বাংলাদেশি শ্রমিক মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। বিদেশি মাটিতে এমন একটি নির্মম ও আকস্মিক দুর্ঘটনায় এত বড় প্রাণহানির খবর মুহূর্তেই দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনৈতক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তৎপর হয়ে ওঠেন। কালক্ষেপণ না করে দূতাবাসের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ও প্রাণ হারানো শ্রমিকদের পরিচয় নির্ভুলভাবে শনাক্তকরণ, তাদের মরদেহগুলো দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের হিমঘরে স্থানান্তর এবং পরবর্তী সময়ে যথাযথ মর্যাদায় মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ও সমন্বিত উপায়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে এবং রিয়াদ দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের দিকনির্দেশনা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দীর্ঘদিনের দাবি আবারও নতুন করে সামনে এসেছে এবং নিহতদের মরদেহ যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যায়, সে বিষয়েও জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত