ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ চায় ঢাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২১ বার
ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ চায় ঢাকা
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে এক অনুকূল ও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বিভিন্ন জটিলতা ও অস্বস্তির বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে ঢাকা। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ও সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিরা ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ায় তাদেরও যত দ্রুত সম্ভব হস্তান্তরের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হিসেবে এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জানান যে, পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি দূর করতে হলে দিল্লিকে অবশ্যই এমন সব পদক্ষেপ নিতে হবে যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের পরিবেশ বজায় রাখে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি ভিন্ রাষ্ট্রে বসে সেই রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা ও কাঠামোর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বাংলাদেশ আশা প্রকাশ করেছে যে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ থাকলেও ঢাকা এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
অন্যদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠকের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দুই দেশের মধ্যকার সব ধরনের সমস্যা সমাধানে খোলামেলা সংলাপ ও গঠনমূলক আলোচনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই প্রতিবেশী দেশ একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে এমন কোনো জটিলতা নেই যার সমাধান অসম্ভব। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছু মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং একে কূটনীতির ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার আবেগের সেতুবন্ধন এবং অংশীদারিত্বের পরিধি আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন ভারতীয় এই কূটনীতিক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সৃষ্ট নানা টানাপোড়েন পেরিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিভিন্ন খুঁটিনাটি দিক তুলে ধরে জানান যে, দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা দূর করতে হলে দিল্লিকে অবশ্যই এমন সব দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে যা দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের আবহ বজায় রাখে। তিনি আরও অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক আইনগতভাবে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি যদি ভিন্ রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে সেই স্বাধীন রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা, সংবিধান ও সামগ্রিক কাঠামোর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, তবে তা কোনো অবস্থাতেই কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না এবং তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বাংলাদেশ দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছে যে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার আর কোনো পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ থাকলেও ঢাকা এই মুহূর্তে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে সামগ্রিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠকের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দুই দেশের মধ্যকার সব ধরনের জটিল সমস্যা সমাধানে খোলামেলা সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার ওপর সর্বাত্মক গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, দুই প্রতিবেশী দেশ একসঙ্গে বসে টেবিলে আলোচনা করলে এমন কোনো আন্তর্জাতিক বা দ্বিপক্ষীয় জটিলতা নেই যার সমাধান অসম্ভব। দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কে ছোটোখাটো মতপার্থক্য থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া এবং একে কোনোভাবেই কূটনীতির সামগ্রিক ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে তা সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের মধ্যকার ঐতিহাসিক আবেগের সেতুবন্ধন এবং অংশীদারিত্বের পরিধি আরও বেশি সুদৃঢ় করার অদম্য প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন ভারতীয় এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সৃষ্ট নানা কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও বরফ গলিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন নতুন দিগন্তের দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত