প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
একটি জবাবদিহিমূলক, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং সম্পূর্ণ জনবান্ধব ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বিনির্মাণের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি জোরালো ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, রাজধানী ঢাকার সাধারণ নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাহিদাগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে হলে নাগরিকদের নিজস্ব মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নগরব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি রাজধানীর ভাষানটেক থানায় এলাকার বিশিষ্ট নাগরিক, শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, বিশিষ্ট পেশাজীবী, কৃষিবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন স্তরের সুধীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এক বিশেষ সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন। সমাজের প্রতিটি মানুষের অধিকার রক্ষা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি মডেল শহর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
উক্ত মতবিনিময় ও সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ও বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত এবং বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আলী হাসান ওসামা। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন। ভাষানটেক থানা জামায়াতের সম্মানিত আমির ডা. মো. আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাষানটেক থানা নায়েবে আমির মো. আব্দুর রহিম, থানা সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন খানসহ স্থানীয় থানা শূরা ও কর্মপরিষদের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল সদস্যবৃন্দ। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেজর অব. সাইফুল ইসলাম, মেজর অব. রিয়াজ হোসেন, মেজর অব. মোহাম্মদ জিল্লাল হোসেন, বিশিষ্ট কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমান, খ্যাতিমান কৃষিবিদ ডক্টর আব্দুল মান্নান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজি সিদ্দিক আহমেদসহ আরও অনেকে।

ভাষানটেক থানার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে আসা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় আলেম-সমাজ, শিক্ষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমাজ, সাংবাদিক এবং সাধারণ সুধীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই সমাবেশটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। মতবিনিময় সভার মূল উন্মুক্ত আলোচনায় ভাষানটেক এলাকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন সমস্যা, দৈনন্দিন নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি, জনকল্যাণমূলক কাজের অগ্রগতি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন, এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এলাকার সাধারণ মানুষ ও সুধীজনরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি, একটি উন্নত, দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার জন্য তারা সুনির্দিষ্ট কিছু গঠনমূলক পরামর্শ ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। পুরো অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের বিগত দিনগুলোতে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত একটি আকর্ষণীয় তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সকলের মাঝে গভীর ইতিবাচক রেখাপাত করে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট বক্তারা তাদের বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, একটি সুন্দর, নিরাপদ, আধুনিক ও প্রকৃত জনবান্ধব সমাজ বা শহর গড়ে তুলতে হলে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বের একক প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বরং এর পাশাপাশি সামাজিক নেতৃত্ব এবং সমাজের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। সাধারণ জনগণের সঙ্গে নির্বাচিত বা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা, কাজের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখার মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তারা সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন। পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক ঢাকা গড়ার এই চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিযাত্রা সফল করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় এবং নগরবাসীর মৌলিক অধিকার রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।