জরুরি গ্যাস আমদানিসহ ৪ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩১ বার
জরুরি গ্যাস আমদানিসহ ৪ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বা ডিপিএমের মাধ্যমে আটটি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের নদী প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করার লক্ষে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের আওতায় ডিভাইস কেনার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়। বর্তমান অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের এই ত্বরিত পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানানো হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে চলমান আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার কারণে দেশে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাসের চাহিদা দেখা দিয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তিনটি পৃথক প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল। ওই প্রস্তাবগুলোর সার্বিক দিক বিবেচনা করে কমিটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মোট আটটি কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট এড়ানো সম্ভব হবে এবং দেশের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সাধারণ গৃহস্থালিতে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, হংকংভিত্তিক ঝেনইউ শিপিং থেকে দুই কার্গো এলএনজি সরাসরি ক্রয় করা হবে। এছাড়া জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চীনের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান চায়না রুনজে হোল্ডিংস থেকেও দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান দারাব ইনকর্পোরেটেড থেকে আনা হবে বাকি দুই কার্গো এলএনজি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সরাসরি এই আট কার্গো এলএনজি আমদানির ফলে দেশের জ্বালানি খাতের ওপর বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব অনেকাংশে কমে আসবে এবং জাতীয় অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শুধু জ্বালানি খাতই নয়, দেশের নদীপথের উন্নয়ন এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআইডব্লিউটিএ বর্তমানে ‘নদী প্রবাহ পুনরুদ্ধার, নৌ-পথের উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে। এই প্রকল্পের আওতাধীন ‘জিনাই, সুতিয়া ও কাঁচামাটিয়া নদীর খননসহ আনুষঙ্গিক কাজ’ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সম্পাদনের একটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হয়, যা কমিটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এই নদীগুলোর খননকাজ সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন নাব্য সংকট দূর হবে এবং নৌচলাচল সহজতর হবে, অন্যদিকে তেমনি আশপাশের অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করে তুলবে।
অন্যদিকে, দেশের প্রান্তিক ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর ‘এসএসপিরিট’ নামের একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সঠিক উপকারভোগীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় ‘এসএসপিরিট’ প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যানড্রয়েড ট্যাব কেনার একটি প্রস্তাবও সভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রস্তাবটিরও নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার জন্য এই ট্যাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যার ফলে সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং প্রকৃত দরিদ্র মানুষ উপকৃত হবে।
সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই ২৫তম সভায় অনুমোদিত মোট চারটি প্রস্তাবের মধ্যে তিনটিই সরাসরি এলএনজি আমদানিসংক্রান্ত এবং অপর দুটি প্রস্তাবের একটি নদী খনন এবং অন্যটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ট্যাব কেনাসংক্রান্ত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করা, অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও বেশি জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তগুলো সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপে দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে এবং জাতীয় উন্নয়নের গতিধারা আরও বেশি বেগবান ও টেকসই হবে বলে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত