প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শুটিংয়ে ফিরছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমিন খান। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’ দিয়ে রুপালি পর্দার কাজে ফিরছেন তিনি। মুহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। নতুন সিনেমাকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনি আমিন খানের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিও আবার সামনে এসেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের কথা বলতে গিয়ে আমিন খান জানিয়েছেন, ঢালিউডে তাঁর প্রথম সিনেমার পারিশ্রমিক ছিল মাত্র এক টাকা। আজকের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে অঙ্কটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও অভিনেতার কাছে সেই এক টাকা ছিল বিশেষ স্মৃতির অংশ। এত বছর পরও তিনি সেই এক টাকার নোটটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন।
নিজের প্রথম পারিশ্রমিকের স্মৃতিচারণ করে আমিন খান জানান, প্রথম ছবির পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া সেই এক টাকার নোট তিনি এখনো অ্যালবামে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। অর্থমূল্যের দিক থেকে সেটি হয়তো খুব সামান্য ছিল, কিন্তু অভিনয়জীবনের প্রথম স্বীকৃতি হিসেবে এর মূল্য তাঁর কাছে অনেক বেশি।
আমিন খানের ভাষ্য, প্রথম সিনেমার পারিশ্রমিকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই সময় পরিচালক ও প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেনের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সহযোগিতা। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে সেই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করেন তিনি।
অভিনেতার স্মৃতিতে, প্রথম সিনেমার প্রয়োজনীয় নানা বিষয় থেকে শুরু করে সিনেমার বাইরের বিভিন্ন প্রয়োজনেও প্রযোজক-পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন পাশে ছিলেন। বিশেষ করে নতুন অভিনেতা হিসেবে তাঁকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতে যে ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছিল, সেটিও তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আমিন খান মনে করেন, একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারের শুরুতে শুধু অর্থ নয়, সঠিক মানুষ ও সঠিক পরিবেশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন একজন অভিনেতার আত্মবিশ্বাস তৈরি করা, তাঁকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দীর্ঘ পথ চলার জন্য প্রস্তুত করে তোলা—এসব ক্ষেত্রেই প্রথম দিকের সহযোগিতার মূল্য অনেক।
অভিনয়ের জগতে প্রবেশের সময় অর্থ উপার্জনকে নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখেননি আমিন খান। বরং ভালো কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করাই ছিল তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। তাঁর কাছে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াটাই তখন ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। সেই কাজের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিত হওয়া এবং শিল্পে নিজের অবস্থান তৈরি করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
এই মানসিকতার কথাই তিনি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, অভিনয়ের শুরুতে পারিশ্রমিক কত পাওয়া যাবে—তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এমন একটি কাজ করা, যা ভবিষ্যতে তাঁর ক্যারিয়ারের ভিত্তি তৈরি করবে।
আমিন খান বলেন, তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল অভিনয় করা, পারিশ্রমিক পাওয়া নয়। তিনি এমন একটি কাজ করতে চেয়েছিলেন, যা তাঁকে শিল্পে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং দীর্ঘ সময় টিকে থাকার সুযোগ তৈরি করবে। সেই সময় অর্থ তাঁর কাছে মুখ্য ছিল না, এখনো নয়। নিজের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করাই ছিল তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢালিউডে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে এই মানসিকতাই আমিন খানকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তাঁর ভক্তরা। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে সামান্য পারিশ্রমিক দিয়ে পথচলা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে তিনি চলচ্চিত্রের পরিচিত ও জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন হয়ে ওঠেন। তাঁর অভিনীত বিভিন্ন সিনেমা দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
এখন দীর্ঘ বিরতির পর নতুন সিনেমার মাধ্যমে আবারও শুটিংয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই অভিনেতা। ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমাটি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে। সিনেমাটির পরিচালক মুহাম্মদ ইকবাল। এতে আমিন খানের পাশাপাশি কলকাতার অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার অভিনয় করছেন। বাংলাদেশের সিনেমায় মধুমিতার এটিই প্রথম কাজ হওয়ায় সিনেমাটি নিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নতুন সিনেমায় ফেরার প্রসঙ্গেও আমিন খানের অভিনয়জীবনের শুরুর সময়ের সঙ্গে একটি অদ্ভুত যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে এক টাকার পারিশ্রমিক হাতে নিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, বহু বছর পর সেই অভিনেতাই আবার নতুন সিনেমার সেটে ফিরছেন। সময় বদলেছে, চলচ্চিত্রের ধরন বদলেছে, দর্শকের রুচি বদলেছে; কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ এখনো অটুট বলে জানিয়েছেন তিনি।
একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারে প্রথম কাজের স্মৃতি অনেক সময় অন্য সব সাফল্যকে ছাপিয়ে যায়। কারণ সেই সময়টিই থাকে স্বপ্ন, অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাবনায় ভরা। আমিন খানের কাছে এক টাকার সেই নোট তাই কেবল পারিশ্রমিকের প্রমাণ নয়; এটি তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সূচনার স্মারক।
আজকের দিনে বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক, জনপ্রিয়তা কিংবা তারকাখ্যাতিই যেখানে একজন অভিনেতার সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে আমিন খানের স্মৃতিচারণ অন্য একটি বিষয় সামনে আনে। একজন শিল্পীর পথচলা অনেক সময় অর্থ দিয়ে শুরু হয় না। ভালো কাজের সুযোগ, মানুষের বিশ্বাস, দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা এবং নিজের প্রতিভার ওপর আস্থা—এসবই হয়ে ওঠে সাফল্যের প্রথম সিঁড়ি।
আমিন খানের ক্যারিয়ারের শুরুর গল্পটিও যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। প্রথম ছবিতে এক টাকা পারিশ্রমিক পেলেও তিনি সেটিকে ছোট করে দেখেননি। বরং সেই এক টাকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিকে এত বছর ধরে যত্ন করে রেখেছেন। কারণ তাঁর কাছে সেটি ছিল একজন নতুন অভিনেতার প্রথম অর্জন, প্রথম স্বীকৃতি এবং বড় স্বপ্নের সূচনা।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পর এখন নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সামনে আবারও নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন আমিন খান। ‘গুলশানের চামেলি’ তাঁর জন্য শুধু নতুন একটি সিনেমা নয়, বরং দীর্ঘ বিরতির পর চলচ্চিত্রে ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ক্যারিয়ারের শুরুতে যে শিল্পী এক টাকার পারিশ্রমিককে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করেছিলেন, সেই শিল্পীর কাছে আজও কাজের গুরুত্ব অর্থের চেয়ে বেশি—সাম্প্রতিক কথাবার্তায় সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।