দুই দিনের পতনের পর স্থিতিশীল তেলের বাজার

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকায় বাজারে আপাতত কিছুটা স্থিরতা দেখা যাচ্ছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) গ্রিনিচ মান সময় ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা প্রায় ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে ৭৯ দশমিক ৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১২ সেন্ট বা ০.১৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের নজরের কেন্দ্রে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা এগোচ্ছে, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের অন্যতম প্রধান বিবেচনার বিষয়। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ।

এদিকে কাতার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারীরা কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছেন। এই খবরের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আগে কিছুটা নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার দাবি করলেও তেহরান সেই দাবি অস্বীকার করেছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বাজারে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কাতারের আমিরি দিওয়ান জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দূরত্ব কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা একটি স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন।

তেলের বাজারে বর্তমান স্থিতিশীলতা তাই স্থায়ী প্রবণতার পরিবর্তে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করা হচ্ছে। সংঘাত আরও বাড়লে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বিপরীতে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক সমঝোতার বাস্তব অগ্রগতি হলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমে তেলের দাম আরও নেমে যেতে পারে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি তেলবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এখানে দীর্ঘস্থায়ী কোনো বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

এই অবস্থায় দুই দিনের দরপতনের পর ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারের মূল চালিকাশক্তি এখনো ভূরাজনীতি। বিনিয়োগকারীরা কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথের দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত