কুড়িগ্রামে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় কাপড় জব্দ, দুই মামলা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ বার
কুড়িগ্রামে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় কাপড় জব্দ, দুই মামলা

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় কাপড় জব্দ করেছে পুলিশ। উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব কাপড় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সুনির্দিষ্ট ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাতে নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার দয়াময়ী পাইলট স্কুলসংলগ্ন এলাকা এবং মোমিনগঞ্জ এলাকায় দুটি পৃথক অভিযান চালানো হয়।

প্রথম অভিযানটি পরিচালনা করা হয় দয়াময়ী পাইলট স্কুলসংলগ্ন ফজলুর রহমান ওরফে ফজলু চেয়ারম্যানের বাড়িতে। অপর অভিযান চালানো হয় মোমিনগঞ্জ এলাকায় রিয়াজুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে। পুলিশের দাবি, দুটি স্থানেই চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা ভারতীয় কাপড় মজুত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে কাপড়গুলো জব্দ করা হয়।

অভিযানে দুটি স্থান থেকে মোট ২৬৮ পিস ভারতীয় প্যান্টের কাপড় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা প্রতিটি কাপড়ের দৈর্ঘ্য ১২ মিটার। সেই হিসাবে উদ্ধার করা কাপড়ের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৩ হাজার ২১৬ মিটার। পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা কাপড়ের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

পুলিশের ভাষ্য, এসব কাপড় বৈধ আমদানি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নাগেশ্বরীর বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জব্দ করা কাপড় বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এগুলো কীভাবে দেশে এসেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কোথায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকজনকে আসামি করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত দায়িত্বে নাগেশ্বরী সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনতাসির মামুন মুন, নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক প্রধান এবং পরিদর্শক তদন্ত আতিকুর রহমান। তাঁদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালায়।

ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুরো জেলায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নাগেশ্বরীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কাপড় জব্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সীমান্তবর্তী হওয়ায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ নজর রয়েছে। অবৈধভাবে আমদানি করা পণ্য যাতে স্থানীয় বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সন্দেহজনক স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জেলার প্রতিটি থানায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি অবৈধ পণ্য পরিবহন ও মজুদের ক্ষেত্রেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চোরাচালান শুধু রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, স্থানীয় বৈধ ব্যবসা ও বাজার ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ে। শুল্ক ও কর পরিশোধ না করে আনা পণ্য তুলনামূলক কম দামে বাজারজাত করা হলে বৈধভাবে আমদানি করা পণ্যের ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় সমস্যায় পড়তে পারেন। ফলে চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও আইন প্রয়োগ জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

নাগেশ্বরীতে সাম্প্রতিক এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ কাপড় জব্দ হওয়ার ঘটনা সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ পণ্য মজুদের বিষয়টিও সামনে এনেছে। পুলিশের তদন্তে যদি চোরাচালানের উৎস, পরিবহনকারী ও সম্ভাব্য ক্রেতা বা সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে এর মাধ্যমে একটি বড় চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে জব্দ করা কাপড়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা স্থানের মালিকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত দায় নির্ধারিত হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সন্দেহজনক পণ্য মজুদ বা পরিবহনের তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাগেশ্বরীতে এক রাতের অভিযানে ২৬৮ পিস ভারতীয় প্যান্টের কাপড় উদ্ধারের ঘটনায় এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে এসব পণ্যের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত করা। প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের কাপড় উদ্ধারের এই অভিযান চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের চলমান তৎপরতারই একটি অংশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত