২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার
২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হলিউডের বক্স অফিসে আবারও নতুন ইতিহাস গড়েছে মার্ভেলের জনপ্রিয় সুপারহিরো চরিত্র স্পাইডারম্যান। টম হল্যান্ড অভিনীত ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তির মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করে প্রবেশ করেছে চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বক্স অফিস ক্লাবে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটির বৈশ্বিক আয় ২ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে এটি বিশ্বের ইতিহাসে ২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করা অল্প কয়েকটি সিনেমার অন্যতম হয়ে উঠেছে।

চলচ্চিত্রটির এই অভাবনীয় সাফল্য শুধু স্পাইডারম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য নয়, সামগ্রিক হলিউড বক্স অফিসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনেমা হলে দর্শক ফেরানো, বড় বাজেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি ছবির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে একই সঙ্গে শক্তিশালী ব্যবসা করা—এই তিন ক্ষেত্রেই চলচ্চিত্রশিল্প নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। সেই বাস্তবতায় ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাওয়া বড় পর্দার প্রতি দর্শকের আগ্রহের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিনেমাটিতে পিটার পার্কার বা স্পাইডারম্যানের ভূমিকায় আবারও দেখা গেছে টম হল্যান্ডকে। মার্ভেলের তথ্য অনুযায়ী, ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ পরিচালনা করেছেন ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন। এতে টম হল্যান্ডের পাশাপাশি রয়েছেন জেনডায়া, স্যাডি সিং, জ্যাকব ব্যাটালন, জন বার্নথাল, ট্রামেল টিলম্যান, মাইকেল মান্ডো ও মার্ক রাফালো। সিনেমাটির গল্পে আগের ঘটনাপ্রবাহের পর আরও একাকী ও কঠিন এক বাস্তবতার মধ্যে থাকা পিটার পার্কারকে কেন্দ্র করে নতুন অধ্যায় তৈরি করা হয়েছে।

‘স্পাইডারম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর ঘটনাপ্রবাহের পর পিটার পার্কারের জীবন অনেকটাই বদলে যায়। পৃথিবীর মানুষ তাকে আর আগের মতো মনে রাখে না। পুরোনো পরিচয় ও সম্পর্ক থেকে দূরে সরে গিয়ে সে অপরাধ দমনে পুরোপুরি স্পাইডারম্যান পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। নতুন সিনেমায় সেই একাকিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং ক্রমবর্ধমান বিপদের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্পই আরও বড় পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের পাশাপাশি নিউইয়র্ক শহরকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন হুমকিও গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। উত্তর আমেরিকার বাজারে এর ব্যবসা দ্রুত বাড়তে থাকে। তৃতীয় সপ্তাহ শেষে সিনেমাটির উত্তর আমেরিকার আয় প্রায় ৭৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় আসে প্রায় ১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে সব মিলিয়ে বৈশ্বিক আয় ২ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের উল্লেখযোগ্য অবদানও সিনেমাটির এই বিশাল আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি কেড়েছে সিনেমাটির আয়ের গতি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই এটি উত্তর আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে প্রায় ৯৩২ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। এরপর মাত্র ছয় দিনের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। এ ধরনের দ্রুত সাফল্য সাধারণত কেবলমাত্র অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রেই দেখা যায়।

২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছানোর গতির দিক থেকেও সিনেমাটি বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছে। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মাত্র ১১ দিনে এই আয় করেছিল। তার পরেই দ্রুততম সময়ে ২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছানো সিনেমা হিসেবে ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ জায়গা করে নিয়েছে। মাত্র তিন সপ্তাহে এই অর্জন সিনেমাটির প্রতি বিশ্বব্যাপী দর্শকের আগ্রহের মাত্রা স্পষ্ট করে।

চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করা সিনেমার সংখ্যা এখনও অত্যন্ত সীমিত। ‘অ্যাভাটার’ প্রায় ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যার আয় প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ ২ দশমিক ৩ বিলিয়নের বেশি আয় করেছে। ‘টাইটানিক’ও ২ দশমিক ২ বিলিয়নের বেশি আয় নিয়ে এই অভিজাত তালিকায় রয়েছে। চীনা অ্যানিমেশন ‘নেজা ২’ও ২ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এর বাইরে ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়াকেন্স’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ও এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এখন তাদের সঙ্গে যুক্ত হলো ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।

এর ফলে স্পাইডারম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের রেকর্ডও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। করোনা মহামারির পর সিনেমা হলকেন্দ্রিক ব্যবসা যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তখন ছবিটির অসাধারণ সাফল্য দর্শকের মধ্যে বড় পর্দার প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছিল। তবে চীনের বাজারে মুক্তি না পাওয়ায় ছবিটি ২ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। এবার ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই সীমা পেরিয়ে আগের সিনেমার রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ভারতের বাজারেও সিনেমাটি মুক্তির শুরু থেকেই শক্তিশালী সাড়া পেয়েছে। বিভিন্ন বক্স অফিস হিসাব অনুযায়ী, প্রথম দিনেই ছবিটির আয় উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়। ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি ভাষায় প্রদর্শন এবং বিপুলসংখ্যক শো আয়োজন দর্শক উপস্থিতি বাড়াতে সহায়তা করেছে। ভারতীয় বাজারে স্পাইডারম্যানের জনপ্রিয়তা বহু বছর ধরে শক্তিশালী এবং টম হল্যান্ডের সংস্করণটি তরুণ দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আবেদন তৈরি করেছে।

তবে সিনেমাটির বক্স অফিস সাফল্যের পেছনে শুধু চরিত্রটির জনপ্রিয়তাই কাজ করেনি। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, টম হল্যান্ডের স্পাইডারম্যান হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা, আগের সিনেমাগুলোর উত্তরাধিকার এবং নতুন গল্প জানার দর্শক আগ্রহ—সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও প্রচারণাও দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

সিনেমাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি এমন এক সময়ে মুক্তি পেয়েছে যখন বিশ্বজুড়ে বড় বাজেটের সিনেমাগুলো আবারও বক্স অফিসে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র সাফল্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও হলিউডের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় কোনো চরিত্রকে নতুন গল্প ও নতুন প্রেক্ষাপটে ফিরিয়ে এনে দর্শকদের বড় পর্দায় টেনে আনা সম্ভব—এই ছবির সাফল্য সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে। তৃতীয় সপ্তাহ শেষেও ছবিটির আয় অব্যাহত রয়েছে। ফলে ২ বিলিয়ন ডলারের পর আরও বড় কোনো মাইলফলক স্পর্শ করার সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ভবিষ্যৎ আয় নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে দর্শক উপস্থিতি, নতুন সিনেমার প্রতিযোগিতা এবং পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে ছবিটির ব্যবসার গতি কতটা স্থিতিশীল থাকে তার ওপর।

তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত—‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শুধু আরেকটি সফল সুপারহিরো সিনেমা হিসেবে থেমে থাকেনি। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে এটি বৈশ্বিক চলচ্চিত্র ব্যবসার ইতিহাসে নিজের আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। পিটার পার্কারের নতুন যাত্রা দর্শকদের কতটা দূর পর্যন্ত নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা। সিনেমা হল থেকে বিদায়ের আগে ছবিটি বক্স অফিসের সর্বকালের তালিকায় আরও ওপরে উঠে নতুন কোনো রেকর্ড তৈরি করতে পারে কি না, সেই উত্তরই এখন হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের পরবর্তী কৌতূহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত