তারেকের ভারত সফর দ্রুত চান দীনেশ ত্রিবেদী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২১ বার
তারেকের ভারত সফর দ্রুত চান দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, মতপার্থক্য ও চ্যালেঞ্জ শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক এবং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এ জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রোববার রাতে ঢাকার বারিধারায় আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান ও তাঁর স্ত্রী কেট জারো খানের আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য দেওয়ার সময় দীনেশ ত্রিবেদী এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা, দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর খুব শিগগিরই হওয়া উচিত। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে কোনো সমস্যা থাকলে তা দূরে সরিয়ে না রেখে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয় এবং সম্পর্ককে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তাঁর মতে, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক স্বার্থের মধ্য দিয়েও এই সম্পর্ক গভীরভাবে গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু একটি সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, দুই দেশের মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন স্বপ্নও রয়েছে। সেই সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ভারত দুটি সার্বভৌম দেশ উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্বার্থের পার্থক্য, মতবিরোধ কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান থাকতেই পারে। তবে এসব বিষয়কে সম্পর্কের অগ্রগতির পথে স্থায়ী বাধা হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্যের স্বাভাবিকতার বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মধ্যে বিতর্ক, যুক্তি-তর্ক ও মতভিন্নতা থাকবেই। কোনো চ্যালেঞ্জ না থাকা বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নয়। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, এসব মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে বিতর্ক বা ভিন্নমত থাকাকে তিনি অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না। বরং আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক অবস্থান বোঝার সুযোগ তৈরি হলে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, দুই নেতাই জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে তাঁরা কাজ করেন এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন সরাসরি বৈঠকে বসেন, তখন অনেক জটিল বিষয় নিয়েও আলোচনা করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, এমন দুই নেতা যখন বৈঠকে বসেন এবং পারস্পরিক আলোচনায় অংশ নেন, তখন এমন কোনো সমস্যা নেই যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা যায় না। তাঁর এই বক্তব্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, আঞ্চলিক সংযোগ ও নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন বিষয় রয়েছে, যেগুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পর্যায়ের বোঝাপড়া তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আলোচনাও আরও কার্যকর হতে পারে।

বিশেষ করে প্রতিবেশী দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন ও পারিবারিক যোগাযোগের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকদের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশ ইতিবাচক হলে এসব ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আগ্রহ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ পর্যায়ের সফর ও বৈঠক হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্ভাব্য ভারত সফরে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের কিছু অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হলে পারস্পরিক আস্থা তৈরির পথও সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে শুধু শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্যে তাই শুধু একটি সফরের প্রত্যাশা নয়, বরং নিয়মিত রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বার্তাও রয়েছে। তাঁর মতে, মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার দরজা খোলা রাখা জরুরি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এগোতে পারলে জটিল বিষয়গুলোরও সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশের জন্যও ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। একইভাবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও আঞ্চলিক গুরুত্ব ভারতের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

এ অবস্থায় তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সফরের সময়সূচি ও কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভারতের পক্ষ থেকে দ্রুত সফরের প্রত্যাশা প্রকাশ পাওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সবশেষে দীনেশ ত্রিবেদী আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিদ্যমান মতপার্থক্যকে পাশ কাটিয়ে নয়, বরং আলোচনার টেবিলে এনে সমাধানের চেষ্টা করেই প্রতিবেশী দুই দেশ ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর পর্যায়ে নিতে চায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত