রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ প্রার্থীরা চাইলে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে এখন পর্যন্ত দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহাল থাকলে আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, তফসিল অনুযায়ী আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দুই প্রার্থীর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের লড়াই হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারিত রয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে নির্ধারিত সময়েই গণনা শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ পান না। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে ভোট প্রদান করেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার হিসেবে রয়েছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়াটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ভোটার সংখ্যা সীমিত হলেও পদটির সাংবিধানিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ২০ আগস্টের সম্ভাব্য ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

ইসি সূত্র অনুযায়ী, ভোটের দিন সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে। তাঁরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ব্যালটে স্বাক্ষর করার পর ভোট দেবেন। ভোট গ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্স খোলা হবে এবং গণনা শুরু হবে। গণনা শেষে বৈধ ভোটের সংখ্যা ও প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষণা করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্বের আরেকটি কারণ হলো, দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত কয়েকটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ পেয়েছে। একাধিক প্রার্থী বহাল থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

গত ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর সমর্থক হিসেবে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন।

দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রপতি পদটি মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত, তবু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বরাবরই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশেষ করে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক দল, সংসদ সদস্য এবং সাধারণ মানুষেরও।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই সাংবিধানিক ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি দায়িত্ব পালনে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসামর্থ্যের বিষয়টি পদত্যাগপত্রে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর পদত্যাগের পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সামনে আসে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়। মনোনয়ন যাচাই শেষে দুই প্রার্থী বৈধ থাকায় এখন সবার নজর আজ বিকেল ৪টার দিকে। এই সময়সীমার মধ্যে কোনো পরিবর্তন না এলে ২০ আগস্ট সংসদ ভবনে সরাসরি ভোট হবে।

এ নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে থাকছেন। ১৩তম জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি আসন থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় বর্তমানে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই সংসদ সদস্যরাই নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ভোট গ্রহণের দিন সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষেই ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে ভোট গণনা শুরু হবে এবং ফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু একজন নতুন রাষ্ট্রপ্রধান বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নিয়মিত কার্যক্রম আবার পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে।

এখন তাই আজকের বিকেল ৪টার সময়সীমাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শেষ মুহূর্তে কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন কি না, নাকি দুই প্রার্থীই নির্বাচনী মাঠে থাকেন—তার ওপর নির্ভর করছে ২০ আগস্ট ভোট হবে কি না। দুই প্রার্থী বহাল থাকলে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে ৩৪৯ সংসদ সদস্যের ভোটে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম। আর কোনো একক প্রার্থী অবশিষ্ট থাকলে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হবে না এবং নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে এখন মূলত অপেক্ষা শেষ সময়ের সিদ্ধান্তের। বিকেল ৪টার পরই স্পষ্ট হবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে কি না। তবে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকার বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০ আগস্টের সম্ভাব্য ভোটই এখন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনের প্রধান আলোচনার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত