আইপিএলের টোপে ডিকভেলাকে ফাঁদে ফেললেন জয়সওয়াল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার
আইপিএলের টোপে ডিকভেলাকে ফাঁদে ফেললেন জয়সওয়াল

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গল টেস্টের শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার ব্যাটার নিরোশান ডিকভেলাকে আইপিএলে খেলার প্রলোভন দেখিয়ে মজার এক ‘মাইন্ড গেম’ খেলেছেন ভারতের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। জয়সওয়ালের কথোপকথনের পরের বলেই আউট হয়ে যান ডিকভেলা। ফলে ঘটনাটি দ্রুতই ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

ক্রিকেট মাঠে প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে চাপে রাখতে স্লেজিংয়ের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। কখনো কথার মাধ্যমে মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা, কখনো আবার ব্যাটারকে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে প্রলুব্ধ করা—এসব কৌশল বহুদিন ধরেই ক্রিকেটের অংশ। তবে গল টেস্টের শেষ দিনে জয়সওয়াল যে কৌশলটি বেছে নেন, সেটি ছিল কিছুটা ভিন্ন। প্রতিপক্ষের ব্যাটারকে আক্রমণাত্মক শটে প্রলুব্ধ করতে তিনি ব্যবহার করেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নাম।

শ্রীলঙ্কার রান তাড়ার সময় ১৪২ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন ডিকভেলা। সেই মুহূর্ত থেকেই তাকে ঘিরে শুরু হয় জয়সওয়ালের কথার লড়াই। স্কয়ার লেগ অঞ্চলে দাঁড়িয়ে ভারতীয় এই ব্যাটার বারবার ডিকভেলাকে আক্রমণাত্মক শট খেলার জন্য উৎসাহ দিতে থাকেন। তার লক্ষ্য ছিল ডিকভেলাকে স্বাভাবিক রক্ষণাত্মক ব্যাটিং থেকে বের করে এনে ঝুঁকি নিতে বাধ্য করা।

জয়সওয়াল প্রথমে ডিকভেলাকে মনে করিয়ে দেন, প্রথম ইনিংসে তিনি বেশ কিছু আক্রমণাত্মক শট খেলেছিলেন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও তেমন কিছু দেখতে চান বলে জানান। ডিকভেলা তখন বিষয়টি নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন। জয়সওয়াল অবশ্য থামেননি। বরং মাঠের নির্দিষ্ট একটি জায়গা দেখিয়ে সেখানে ছক্কা মারার আহ্বান জানান।

তখন ডিকভেলা মজার ছলে বলেন, তাকে আইপিএলে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে তিনি এমন শট খেলতে পারেন। জয়সওয়ালও সঙ্গে সঙ্গে সেই কথার সুযোগ নেন। তিনি ডিকভেলাকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, তাকে আইপিএলে নেওয়া হবে এবং একটি ছক্কা মারতে পারলে সেই সুযোগ আরও নিশ্চিত। কথোপকথনটি ছিল অনেকটা বন্ধুত্বপূর্ণ রসিকতার মতো হলেও এর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল প্রতিপক্ষকে ঝুঁকি নেওয়ানোর কৌশল।

ডিকভেলা জয়সওয়ালের কথায় ধন্যবাদ জানিয়ে কথোপকথন শেষ করেন। কিন্তু মাঠে এরপর যা ঘটে, সেটিই পুরো ঘটনাকে আরও মজার করে তোলে।

পরের বলেই ভারতের পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা অফ স্টাম্পের বাইরে একটি শর্ট বল করেন। ডিকভেলা জায়গা তৈরি করে বলটি কাট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শটটি তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। ব্যাটের কিনারায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপার ঋষভ পন্তের হাতে। ফলে মাত্র ১০ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।

অর্থাৎ জয়সওয়ালের সঙ্গে আইপিএল নিয়ে কথোপকথনের পরপরই ডিকভেলা আক্রমণাত্মক শট খেলার চেষ্টা করেন এবং সেই চেষ্টাতেই উইকেট হারান। ক্রিকেটের দৃষ্টিতে ঘটনাটি নিছক কাকতালীয়ও হতে পারে, কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি এবং ঠিক আগের কথোপকথনের কারণে এটি ভারতীয় দলের জন্য নিঃসন্দেহে একটি মজার মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনাটির ভিডিও ও কথোপকথন ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। বিশেষ করে জয়সওয়ালের আত্মবিশ্বাসী কথাবার্তা এবং তার পরের বলেই ডিকভেলার আউট হয়ে যাওয়া ঘটনাটিকে আরও নাটকীয় করে তুলেছে। ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের মনস্তত্ত্ব বোঝা এবং সেই অনুযায়ী ফিল্ডিং বা কথাবার্তার মাধ্যমে চাপ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। জয়সওয়ালের আচরণকে সেই বৃহত্তর কৌশলেরই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার মতে, জয়সওয়াল ও ডিকভেলার কথোপকথনে দুজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিত্বও ফুটে উঠেছে। ডিকভেলা মাঠে প্রাণবন্ত এবং কথাবার্তায় সরব হিসেবে পরিচিত হওয়ায় জয়সওয়ালের প্ররোচনায় তিনি সাড়া দিয়েছিলেন বলেও মনে করেন হার্শা।

হার্শার বিশ্লেষণে ম্যাচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে এসেছে। তার মতে, শ্রীলঙ্কা যখন ধৈর্য ধরে রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করেছে, তখন ভারতীয় বোলারদের বিপক্ষে তাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। কিন্তু ব্যাটাররা যখন মেজাজ হারিয়ে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গেছেন, তখনই উইকেট হারানোর ঝুঁকি বেড়েছে।

গল টেস্টের শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার সামনে ছিল কঠিন এক লক্ষ্য। ম্যাচের পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিটি রান যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি উইকেট ধরে রাখাও ছিল সমান জরুরি। এমন অবস্থায় ব্যাটারদের জন্য ধৈর্য বজায় রাখা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জয়সওয়ালের মতো একজন ফিল্ডারের পক্ষ থেকে বারবার আক্রমণাত্মক শট খেলার আহ্বান সেই মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ডিকভেলার আউট তাই শুধু একটি উইকেটের ঘটনা নয়; ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে মানসিক লড়াইয়ের একটি দৃশ্যও হয়ে দাঁড়িয়েছে। জয়সওয়াল সরাসরি কোনো বোলিং পরিবর্তন করেননি, কোনো বিশেষ ফিল্ডিং সেটআপও একা তৈরি করেননি; বরং কথার মাধ্যমে ব্যাটারকে নির্দিষ্ট শট খেলতে উৎসাহিত করেছেন। আর সেই কথার পরের বলেই যখন ডিকভেলা আউট হন, তখন ভারতীয় শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই হাসির উপলক্ষ তৈরি হয়।

এদিকে ম্যাচের ওই পর্যায়ে শ্রীলঙ্কা ছিল কঠিন চাপে। ৭২ ওভার শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৫ রান। জয় পেতে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ১৭৭ রান, আর ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র চারটি উইকেট। ফলে শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই সফরকারী ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ছিল।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সোনাল দিনুশা ও কেশারা নুয়ান্থা তখন প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন। ম্যাচে তখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ওভার বাকি থাকায় শ্রীলঙ্কার সামনে তাত্ত্বিকভাবে সুযোগ ছিল। তবে উইকেটের ধারাবাহিক পতন তাদের কাজকে কঠিন করে তুলেছিল।

ক্রিকেটে অনেক সময় ম্যাচের বড় মুহূর্ত আসে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের বাইরে থেকেও। একজন ব্যাটারকে কয়েকটি কথা বলে চাপে ফেলা, তার মনোযোগে সামান্য পরিবর্তন আনা কিংবা তাকে স্বাভাবিক কৌশল থেকে বিচ্যুত করা—এসবই আধুনিক ক্রিকেটের মানসিক লড়াইয়ের অংশ। গলের এই ঘটনাটি সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে আনল।

জয়সওয়ালের ‘আইপিএল টোপ’ শেষ পর্যন্ত সত্যিই ডিকভেলার উইকেটের কারণ হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে ঘটনাক্রমের অদ্ভুত মিল ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। একটি ছক্কার প্রলোভন, আইপিএলে খেলার মজার প্রতিশ্রুতি এবং ঠিক পরের বলেই ক্যাচ—সব মিলিয়ে গল টেস্টের শেষ দিনে এটি হয়ে উঠেছে ক্রিকেট মাঠের অন্যতম আলোচিত হাস্যরসাত্মক মুহূর্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত