শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার
শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ১৯  আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানো হবে। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি, রাজনীতিক, বিচারপতি, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হবে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বুধবার দুপুরে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সময়সূচি জানান। তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যদিও সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির পদটি রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা, সাংবিধানিক ভারসাম্য এবং আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিজয়ী প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হওয়ার পর। গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সাময়িকভাবে গ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ফলে রাষ্ট্রপতির পদে নতুন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সামনে আসে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আগামীকাল জাতীয় সংসদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন।

বঙ্গভবনে অনুষ্ঠেয় শপথকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সাধারণত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও কূটনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব গ্রহণ করানো হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট এবং পরবর্তী শপথ—দুটি ধাপই বাংলাদেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ফলে বৃহস্পতিবারের ভোটের পর শুক্রবারের শপথ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিসরে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা এবং দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে থাকবে সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের কাঠামোর মধ্যেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের মধ্যেও ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শপথ অনুষ্ঠানের দিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি নতুন রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আগ্রহ থাকবে। নতুন রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের আগে সংসদীয় পর্যায়েও প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই শুক্রবারের শপথ অনুষ্ঠান কার্যকর হবে। ফলে বৃহস্পতিবারের ভোটের ফলাফল এবং শুক্রবারের শপথ—দুই দিনই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একদিকে রাষ্ট্রপতির পদে শূন্যতা পূরণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, অন্যদিকে বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় দরবার হলে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই পরিবর্তন তাই শুধু একটি পদে নতুন ব্যক্তির আগমন নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বৃহস্পতিবারের ভোটের মধ্য দিয়ে যার সূচনা এবং শুক্রবার সন্ধ্যার শপথের মধ্য দিয়ে যার আনুষ্ঠানিক পরিণতি ঘটতে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত