ব্যাংকাস্যুরেন্সে সাফল্য, পূবালী ব্যাংকের ৪২ কর্মকর্তা সংবর্ধিত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার
ব্যাংকাস্যুরেন্সে সাফল্য, পূবালী ব্যাংকের ৪২ কর্মকর্তা সংবর্ধিত

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্যাংকিং ও বিমা সেবার সমন্বিত উদ্যোগ ব্যাংকাস্যুরেন্সে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পূবালী ব্যাংকের ৪২ কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি। শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ব্যাংকাস্যুরেন্স কনফারেন্স-২০২৫’-এ ৯ কর্মকর্তাকে ‘বর্ষসেরা’ পদক এবং আরও ৩৩ কর্মকর্তাকে সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়।

ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে জীবনবিমাকে আরও সহজভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, ব্যবসা সম্প্রসারণের কৌশল নির্ধারণ এবং গ্রাহকদের জন্য সমন্বিত আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় সেখানে গুরুত্ব পায়।

ব্যাংকাস্যুরেন্স বাংলাদেশের আর্থিক খাতে তুলনামূলকভাবে নতুন একটি সেবা কাঠামো। এর মাধ্যমে ব্যাংকের শাখা ও গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে জীবনবিমার বিভিন্ন সুবিধা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। পূবালী ব্যাংক ও ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সের মধ্যে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। পূবালী ব্যাংকের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ব্যাংকটি ডেল্টা লাইফের সঙ্গে অংশীদারত্বে ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবা চালু করে।

সম্মেলনে ২০২৫ সালের ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসায় কর্মকর্তাদের অবদানকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়। এর অংশ হিসেবে পূবালী ব্যাংকের নয়জন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয় ‘বর্ষসেরা’ পদক। পাশাপাশি আরও ৩৩ কর্মকর্তাকে দেওয়া হয় সম্মাননা সনদ। মোট ৪২ কর্মকর্তার এই স্বীকৃতি ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভূমিকার ওপর প্রতিষ্ঠানের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কনসালট্যান্ট শফিউল আলম খান চৌধুরী এবং পূবালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহনেওয়াজ খান। ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার সাধু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডেল্টা লাইফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মিল্টন বেপারী এবং পূবালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান ব্যাংকাস্যুরেন্স কর্মকর্তা মো. ফয়জুল হক শরীফসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের মূল আলোচনায় ছিল ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা এবং গ্রাহকের কাছে বিমা সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকের বিদ্যমান অবকাঠামোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের শাখাগুলো গ্রাহকের সঞ্চয়, ঋণ, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই একই গ্রাহকসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে জীবনবিমার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং বিমা পণ্য গ্রহণের সুযোগ তৈরি করাই ব্যাংকাস্যুরেন্সের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পূবালী ব্যাংক ও ডেল্টা লাইফের অংশীদারত্বের মাধ্যমে গ্রাহকেরা ব্যাংকের শাখা থেকেই জীবনবিমার সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সেবা চালুর সময় প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এই উদ্যোগ গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ব্যাংকিং ও বিমা সেবাকে একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

ব্যাংকাস্যুরেন্সকে ঘিরে চলতি বছর দুই প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালাও আয়োজন করতে দেখা গেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত একটি কর্মশালায় পূবালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপক, উপশাখা ব্যবস্থাপক এবং ব্যাংকাস্যুরেন্স কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে বিমা সেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সম্মেলন থেকে বোঝা যায়, ব্যাংকাস্যুরেন্সকে শুধু একটি নতুন পণ্য বিক্রির কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং ব্যাংকের সামগ্রিক গ্রাহকসেবার একটি অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে। কারণ বিমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা, প্রয়োজনীয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার বিষয়গুলো অনেক সময় ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে। ফলে একজন গ্রাহক যখন সঞ্চয়, ঋণ বা বিনিয়োগের বিষয়ে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন তার ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা নিয়েও আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে ব্যাংকাস্যুরেন্সের সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করে গ্রাহককে সঠিক তথ্য দেওয়ার ওপর। কোন ধরনের বিমা পলিসি কার জন্য উপযোগী, প্রিমিয়ামের পরিমাণ কত, মেয়াদ শেষে কী সুবিধা পাওয়া যাবে, কোন পরিস্থিতিতে দাবি করা যাবে এবং পলিসির শর্ত কী—এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন। গ্রাহকের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংকাস্যুরেন্স আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

পূবালী ব্যাংক ও ডেল্টা লাইফের যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রেও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি শুরু থেকেই গুরুত্ব পেয়েছে। সেবা চালুর সময় প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে গ্রাহকের জীবন ও আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার এবং জীবনবিমার সুবিধাকে আরও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

শ্রীমঙ্গলের সম্মেলনে কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার বিষয়টি তাই কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়; এটি ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রমকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ব্যাংকের শাখা পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সক্রিয়তা, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিমা সেবার সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির ওপর এ কার্যক্রমের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে।

বাংলাদেশে বিমা খাতের প্রসারে ব্যাংকাস্যুরেন্সের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত আর্থিক লেনদেন করলেও জীবনবিমার আওতায় আসেননি। ব্যাংকের বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেই জনগোষ্ঠীর কাছে বিমা সেবা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে গ্রাহকের জন্য আলাদা জায়গায় গিয়ে বিমা সেবা নেওয়ার প্রয়োজন কমলে সেবাটি আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে পূবালী ব্যাংকের ৪২ কর্মকর্তার স্বীকৃতি ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রমে নতুন গতি সৃষ্টির বার্তা দিচ্ছে। সামনে এই সেবা কতটা বিস্তৃত হয় এবং গ্রাহকের দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনায় জীবনবিমাকে কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রশিক্ষিত জনবল, স্বচ্ছ তথ্য, উপযুক্ত পণ্য এবং গ্রাহকের প্রয়োজনভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে ব্যাংকাস্যুরেন্স বাংলাদেশের আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শ্রীমঙ্গলের ওই সম্মেলনে তাই পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকনির্দেশনাও সামনে এসেছে। ৪২ কর্মকর্তার স্বীকৃতি সংশ্লিষ্টদের কাজের মূল্যায়ন যেমন করেছে, তেমনি ব্যাংক ও বিমা খাতের যৌথ সেবাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাও তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত