প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। নিহতরা কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে স্থানীয় সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, তিন বছরের ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলী রয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত দেবাশিস দত্ত ওই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দেবাশিস দত্ত আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এবং চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করতেন। এর আগে এশিয়ান টেলিভিশন, নাগরিক টিভিসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেবাশিস দত্তের পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট দেবাশিস দত্ত তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরু যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তারা কলকাতায় ফেরেন। এরপর একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন তারা। ওই রাতেই হোটেলটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুনে দেবাশিস দত্তের শ্বশুর মো. আকরাম আলীসহ পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। তাদের বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল।
নিহত চারজন হলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের তিন বছরের ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী (৬৪)।
দুর্ঘটনার সময় দেবাশিস দত্তের আট বছর বয়সী মেয়ে পাখি কুষ্টিয়ার বাড়িতে ছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তথ্য জানিয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা নিহত ও আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে। নিহত অন্যদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
কলকাতায় চিকিৎসা শেষে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই দেবাশিস দত্ত ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের এই মর্মান্তিক মৃত্যু কুষ্টিয়াসহ বাংলাদেশে শোকের আবহ তৈরি করেছে।