আবাহনীতেই থাকছেন মিতুল-মোরসালিন

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফিফার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর নতুন মৌসুমের দল গোছানোর কাজে নেমেছে আবাহনী লিমিটেড। ক্লাব ছাড়ার নানা গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষক মিতুল মারমা ও জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিনকে ধরে রাখতে পেরেছে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা।

নতুন মৌসুমে গতবারের স্কোয়াডের ১৭ জন ফুটবলারকেই রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে আবাহনী। আল আমিন, মিরাজুল ইসলামসহ অধিকাংশ স্থানীয় খেলোয়াড়ই থাকছেন। তবে সুলেমান দিয়াবাতে, সুশান্ত ত্রিপুরা ও আলমগীর মোল্লাসহ কয়েকজন ইতোমধ্যে ক্লাব ছেড়েছেন।

ফিফার নিষেধাজ্ঞা ওঠার পরপরই দল গোছানোর কাজে গতি বাড়িয়েছে আবাহনী। শুরুতেই ম্যানেজার পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সত্যজিৎ দাস রুপুকে সরিয়ে নতুন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শহীদ হোসেন স্বপনকে। একই সঙ্গে কোচের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এ কে এম মারুফুল হককে।

দল গঠনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আবাহনীর ম্যানেজার শহীদ হোসেন স্বপন জানিয়েছেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গত মৌসুমের অধিকাংশ ফুটবলারকে ধরে রেখে প্রতিযোগিতামূলক দল গঠনের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, আবাহনীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাই অবগত। নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দল সাজানোর চেষ্টা করছে। দিয়াবাতে ও আলমগীরসহ কয়েকজন চলে গেলেও শেখ মোরসালিন, মিতুল মারমাসহ অধিকাংশ ফুটবলার দলে থাকছেন।

ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাবকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ কারণে এই মুহূর্তে বিদেশি ফুটবলার আনার বিষয়ে খুব বেশি চিন্তা করছে না আবাহনী। সীমিত বাজেটের মধ্যেই ভালো মানের দল গড়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

গত মৌসুমে আবাহনীর আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে। নতুন মৌসুমে তিনি সাবেক ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে ফিরে গেছেন। ফলে আক্রমণভাগে তাঁর জায়গা পূরণ করা আবাহনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় ফুটবলার মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বসুন্ধরা কিংস তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে মোরসালিনসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় খেলোয়াড়দের ধরে রাখার সিদ্ধান্ত আবাহনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত কয়েক মৌসুম ধরেই সাফল্যের বাইরে রয়েছে আবাহনী। ২০২১-২২ মৌসুমে ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ জয়ের পর আর কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

লিগেও দীর্ঘদিন ধরে শিরোপাবঞ্চিত আবাহনী। ক্লাবটির সর্বশেষ লিগ শিরোপা এসেছিল ২০১৭-১৮ মৌসুমে। ছয়বারের লিগ চ্যাম্পিয়নদের সামনে নতুন মৌসুমে তাই ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

ফিফার নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিদায়ের মধ্যেও মিতুল মারমা ও শেখ মোরসালিনকে ধরে রাখা আবাহনীর জন্য ইতিবাচক দিক। গত মৌসুমের মূল স্কোয়াডের বড় অংশকে ধরে রাখতে পারলে নতুন কোচ মারুফুল হকের অধীনে দলটি নিজেদের ধারাবাহিকতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারবে—এমন প্রত্যাশাই এখন ক্লাব সংশ্লিষ্টদের।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত