ইরানকে সহায়তা করলে দেশগুলোকে কঠোর শাস্তির হুমকি ট্রাম্পের

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে নতুন ও বড় ধরনের অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে সহায়তা করা কিংবা দেশটির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা যেকোনো দেশকে ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এটি।

ট্রাম্প লিখেছেন, এটি হবে ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও একঘরে অবস্থা’। ইরানকে সহায়তা করলে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, সেই দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থাও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো দেশের নামও উল্লেখ করেননি তিনি।

ট্রাম্প অবশ্য এমন কয়েকটি কর্মকাণ্ডের কথা বলেছেন, যেগুলো তাঁর ভাষায় অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তাঁর ঘোষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও মার্কিন চাপ বাড়তে পারে।

অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার নতুন উদ্যোগ

ইরান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অর্থনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা এলো। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের কোনো পথ বের হয়নি। একই সময়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং ভোক্তাদের ওপরও পড়ছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও গত সপ্তাহে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের পাশাপাশি ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্যোগ জোরদার করা হবে।

রক্ষণশীল মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, এটি হবে অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার একটি সমন্বিত উদ্যোগ, যার নজির বিশ্ব আগে দেখেনি।

‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কয়েক মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের অর্থায়নের পথ সংকুচিত করা।

নতুন ঘোষণার মাধ্যমে সেই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এত দিন যেখানে ইরানের নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, এবার ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশগুলোকেও চাপের আওতায় আনার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ইরানের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও সরকারি সংস্থাগুলোর ওপরও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

দেশের ভেতরেও চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধের ব্যয় এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়লে এর প্রভাব মার্কিন ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।

একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপরও চাপ বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা জোরদার হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে একদিকে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সামলানোর চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক হুমকি সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ সংকুচিত করে দেশটির ওপর চাপ বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

তবে ইরানকে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তা কতটা বিস্তৃত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি মার্কিন প্রশাসন। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত