নাগরিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান সেলিম উদ্দিনের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার
নাগরিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান সেলিম উদ্দিনের

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেছেন, শুধু সরকারের বা সিটি করপোরেশনের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে একটি শহরকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে বাংলাদেশকে একটি মডেল দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় সাত দিনের পরিচ্ছন্নতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের শেষ দিনে এসব কথা বলেন তিনি। রোববার সকালে উত্তরা-দক্ষিণখান পূর্ব থানার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিদুরপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে এলাকাটিকে পরিচ্ছন্ন ও পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণখানের বিদুরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লার একটি বড় স্তূপ জমে ছিল। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মীরা সেই ময়লা অপসারণ করে জায়গাটিকে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে তুলেছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ময়লার কারণে ব্যবহারে অসুবিধা হওয়া ফুটপাতটিও পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।

সেলিম উদ্দিনের মতে, একটি শহরের পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি নাগরিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মানের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। রাস্তাঘাট, ফুটপাত, বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকার আশপাশে বর্জ্য জমে থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশ পরিষ্কার রাখা সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম থাকার পরও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায় না। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে নাগরিকরাও নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। নিজের বাড়ি, রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার সংস্কৃতি গড়ে উঠলে নগর ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সেলিম উদ্দিন বলেন, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে এলাকার অবশিষ্ট ময়লার স্তূপ দ্রুত অপসারণের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিদুরপাড়া জামে মসজিদের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়টি জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। মুসল্লিদের স্বাভাবিক চলাচল এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখতে সেখানে জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো যথাসময়ে কাজ না করলে স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতার কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। সাত দিনের অভিযানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কাউকে রাজনৈতিকভাবে দেখানো বা সমালোচনা করা নয়। তার ভাষায়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা মানবিকতা ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ। ভালো কাজকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার না করে সবাইকে তা সমর্থন করা উচিত। সরকারের কোনো উদ্যোগ জনকল্যাণে ভূমিকা রাখলে সেটিকেও ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে আধুনিক ও মডেল নগরীতে রূপান্তরের কথাও তুলে ধরেন সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর আমরাই গড়ব, ঢাকা উত্তর বদলে দেব’—এই প্রত্যয় নিয়ে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। তার মতে, একটি আধুনিক নগরী গড়তে শুধু নতুন সড়ক বা ভবন নির্মাণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা, নাগরিক সেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন চিন্তার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তার মতে, বর্জ্যকে শুধু অপ্রয়োজনীয় ময়লা হিসেবে দেখলে সমস্যার সমাধান হবে না। আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেক বর্জ্যকে নতুন সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক, কাগজ ও অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ থেকে নতুন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও এই খাতকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সেলিম উদ্দিন জানান, বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য কলম তৈরির একটি উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কলম বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের কথা ভাবা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের একটি উদাহরণ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে চাকরির অভাবে তরুণদের বাধ্য হয়ে বিদেশে যেতে হবে না। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নগর এলাকায় নতুন শিল্প, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও পুনর্ব্যবহারভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা যেতে পারে।

নগর উন্নয়নের সঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুরি, দুর্নীতি ও অনিয়ম কমিয়ে জনগণের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নাগরিক সংকট সমাধানে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত করাই একটি দায়িত্বশীল প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সেলিম উদ্দিন নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি শহর পরিবর্তনের জন্য শুধু নির্বাচিত প্রতিনিধির ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রতিটি নাগরিককে নিজের দায়িত্ব বুঝতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা, পরিবেশ দূষণ রোধ করা, সরকারি সম্পদ রক্ষা করা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে একটি শহরের চেহারা দ্রুত বদলে যেতে পারে।

তার বক্তব্যে উঠে আসে নাগরিক সচেতনতার একটি বড় বার্তা—পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ার দায়িত্ব সবার। প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে এবং নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এই তিন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই একটি আধুনিক নগরী গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

সাত দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের শেষ দিনের এই কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম জোনের পরিচালক এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মো. জামাল উদ্দিন, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ডা. হাবিবুর রহমান, দক্ষিণখান পূর্ব থানা আমির মো. আবু সাঈদ, থানা সেক্রেটারি ডা. জাকিরুল ইসলাম এবং দক্ষিণখান পূর্ব থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রহমাতুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার মতো দ্রুত সম্প্রসারিত একটি মহানগরীর জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা এখন বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হওয়ায় শুধু ময়লা অপসারণ নয়, এর সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নগরবাসীর সচেতনতা, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটানো গেলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেলিম উদ্দিনের বক্তব্যেও সেই সম্মিলিত দায়িত্ববোধের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হলে শুধু ঢাকা নয়, পুরো বাংলাদেশকেই আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেশে পরিণত করা সম্ভব। একটি মডেল দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাই প্রয়োজন সচেতন নাগরিক, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং জনকল্যাণকেন্দ্রিক কার্যকর উদ্যোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত