বাংলাদেশকে চাপে রেখে প্রথম দিন দাপট দক্ষিণ আফ্রিকার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার
বাংলাদেশকে চাপে রেখে প্রথম দিন দাপট দক্ষিণ আফ্রিকার

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিশিয়াল টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। শুরুতে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ আশা জাগালেও পরে সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। বড় জুটি গড়ে স্বাগতিক ব্যাটাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছেন।

দিনের খেলা শেষে ৮৯ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৭২ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। ফলে প্রথম দিন শেষেই বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে ফেলেছে স্বাগতিকরা। অপরাজিত ব্যাটারদের একজন সাইনেথেম্বা কেশিল ১৪৫ বলে ১১১ রান করেছেন। তাঁর সঙ্গে গ্যাভিন কাপলান ৯৯ বলে ৭২ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ‘এ’। ম্যাচের শুরুতে সেই সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তিও এনে দেয় সফরকারীদের। ইনিংসের শুরুতেই শেপাং দিথোলে মাত্র ৪ রান করে মুশফিক হাসানের বলে ফিরে যান। দ্রুত উইকেট পাওয়ায় বাংলাদেশ ‘এ’ বোলাররা স্বাগতিক ব্যাটিং লাইনআপের ওপর চাপ তৈরি করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

কিন্তু সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। জুবায়ের হামজা ও লেসেগো সেনোকোয়ানে ক্রিজে এসে বাংলাদেশের বোলারদের পরিকল্পনা পাল্টে দেন। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ১৫১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। প্রথম উইকেট হারানোর পর দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ যে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এই জুটিই তার প্রমাণ দেয়।

১০৪ বলে ৬৮ রান করার পর হামজার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। রেজাউর রহমান রাজার বলে আউট হন তিনি। হামজার বিদায়ের পরও বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কারণ স্বাগতিকদের স্কোর তখনও খুব বড় হয়নি এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

এরপর মার্কেস অ্যাকারম্যানকে মাত্র ৪ রানে ফিরিয়ে দেন হাসান মুরাদ। অ্যাকারম্যানের উইকেট পাওয়ার পর ১৬৬ রানে তিন উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। এই পর্যায়ে বাংলাদেশ ‘এ’ কিছুটা ম্যাচে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। স্বাগতিক দলের ওপর আবারও চাপ তৈরি হচ্ছিল এবং আরও একটি উইকেট দ্রুত তুলে নিতে পারলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সুযোগ ছিল সফরকারীদের সামনে।

কিন্তু সেই সুযোগ আর কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ ‘এ’। সেনোকোয়ানে ও কেশিল ক্রিজে থেকে বাংলাদেশের বোলারদের সব পরিকল্পনা ধীরে ধীরে ভেস্তে দেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ব্যাট থেকে আসে ১৮২ রানের বিশাল জুটি। এই জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’-কে দিনের শেষভাগে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়।

সেনোকোয়ানে ছিলেন বিশেষভাবে আক্রমণাত্মক। ১৬৯ বল মোকাবিলা করে ১১১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও একটি ছক্কা। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে তিনি দলের স্কোরকে বড় জায়গায় নিয়ে যান।

শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন সেনোকোয়ানে। তবে তাঁর বিদায়েও স্বাগতিকদের রান তোলার গতি থামেনি। বরং দিনের শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে কেশিল ও কাপলান দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’-কে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।

কেশিলের ব্যাটে ছিল দারুণ ধারাবাহিকতা। ১৪৫ বলে ১১১ রান করে তিনি অপরাজিত আছেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে কাপলান ৯৯ বলে ৭২ রান করে অপরাজিত। ফলে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ আরও দ্রুত রান বাড়ানোর লক্ষ্যেই ব্যাটিংয়ে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বোলিংয়ের দিকে তাকালে মুশফিক হাসান ও হাসান মুরাদ একটি করে উইকেট পেয়েছেন। মুশফিক ১২ ওভার বল করে ৪৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। রেজাউর রহমান রাজা ১৪ ওভারে ৬৯ রান দিয়ে একটি উইকেট পেয়েছেন। নাঈম হাসান ১০ ওভারে ৯২ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। হাসান মুরাদ সবচেয়ে বেশি ৩২ ওভার বোলিং করে ১১৪ রান দিয়েছেন এবং একটি উইকেট পেয়েছেন।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে হাসান মুরাদ সবচেয়ে বেশি ওভার করলেও স্বাগতিক ব্যাটারদের ওপর দীর্ঘ সময় চাপ ধরে রাখতে পারেননি। এক প্রান্ত থেকে নিয়মিত রান আসায় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নেয়। বিশেষ করে সেনোকোয়ানে ও কেশিলের ১৮২ রানের জুটি বাংলাদেশের ফিল্ডিং ও বোলিং ইউনিটকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।

প্রথম দিনটির শুরু ও শেষের চিত্রে ছিল স্পষ্ট পার্থক্য। শুরুতে বাংলাদেশ দ্রুত উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু পরের সময়টায় সেই চাপ ধরে রাখা যায়নি। মাঝের ও শেষ সেশনে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ব্যাটাররা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং বাংলাদেশের বোলারদের অপেক্ষা করতে হয়েছে উইকেটের জন্য।

চার দিনের আনঅফিশিয়াল টেস্টে প্রথম দিনের শেষভাগে এত বড় স্কোর করা দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’-কে স্বাভাবিকভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। ৩৭২ রানে চার উইকেট হারানো মানে তাদের হাতে এখনও ছয়টি উইকেট রয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ থাকছে স্বাগতিকদের সামনে।

বাংলাদেশ ‘এ’-এর জন্য দ্বিতীয় দিনের শুরুটা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’-কে আটকে রাখতে না পারলে স্কোর আরও বড় হতে পারে। আর যদি স্বাগতিকরা পাঁচশ রানের কাছাকাছি বা তার বেশি সংগ্রহ গড়ে ফেলে, তাহলে ম্যাচে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

এর আগে প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম আনঅফিশিয়াল টেস্টে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচেও স্বাগতিকরা এগিয়ে যাওয়ার অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্য এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো শুধু একটি ম্যাচের ফলের জন্য নয়, পুরো সিরিজের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নতুন দিনের শুরুতে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া। বিশেষ করে কেশিল ও কাপলানকে দ্রুত ফেরাতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সংগ্রহের গতি থামানো সম্ভব হতে পারে। অন্যথায় নতুন ব্যাটাররা এসে আরও বড় জুটি গড়ে স্বাগতিকদের স্কোরকে বাংলাদেশের নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে পারেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্যও সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ যদি বড় স্কোর গড়ে, তাহলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হবে। সেই চাপ সামলে দীর্ঘ ইনিংস খেলতে হবে সফরকারীদের। পচেফস্ট্রুমের কন্ডিশনে নতুন বলের চ্যালেঞ্জ সামলে শুরুটা ভালো করা তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রথম দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টতই দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’-এর হাতে। তবে চার দিনের ম্যাচে এখনও অনেক ক্রিকেট বাকি। একটি ভালো বোলিং সেশন কিংবা বাংলাদেশের ব্যাটারদের বড় জুটি ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। তাই দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশ কত দ্রুত স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে আনতে পারে এবং নিজেদের ব্যাটিংয়ে কতটা দৃঢ়তা দেখাতে পারে, সেটিই হয়ে উঠবে ম্যাচের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ যে শক্ত ভিত তৈরি করেছে, তা এখন বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে সেই ভিত ভাঙার পাশাপাশি নিজেদের ব্যাটিংয়ে জবাব দেওয়াই হবে সফরকারীদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে স্বাগতিকরা চাইবে কেশিল ও কাপলানের ব্যাটে ভর করে আরও বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে ম্যাচের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ বনাম বাংলাদেশ ‘এ’ সিরিজের দ্বিতীয় আনঅফিশিয়াল টেস্টের প্রথম দিন তাই স্বাগতিকদের দাপটেই শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন লড়াই। এখন দেখার বিষয়, বোলাররা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন কি না এবং ব্যাট হাতে বাংলাদেশ ‘এ’ সেই চাপের যথাযথ জবাব দিতে পারে কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত