পাঁচ মাসেই ভাঙল বাদশাহ-ইশার দাম্পত্য

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ বার
পাঁচ মাসেই ভাঙল বাদশাহ-ইশার দাম্পত্য

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতীয় সংগীত ও বিনোদন অঙ্গনে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে র‍্যাপার বাদশাহ ও পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখির দাম্পত্য বিচ্ছেদের খবর। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় নিজেদের আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এই তারকা জুটি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে প্রায় একই ধরনের বিবৃতি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুজন।

বিবৃতিতে বাদশাহ ও ইশা রিখি জানান, তারা পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সম্পর্কের এই পরিণতির কারণ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তারা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সময়ে তাদের গোপনীয়তাকে সম্মান করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তারকা জুটির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সম্পর্কটি নিয়ে যেন কোনো ধরনের জল্পনা, অনুমান কিংবা গুজব ছড়ানো না হয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিচ্ছেদের বিষয়ে এটিই তাদের একমাত্র প্রকাশ্য মন্তব্য। ফলে এর বাইরে নতুন কোনো ব্যাখ্যা বা কারণ নিজেদের পক্ষ থেকে না দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন গুঞ্জনকে সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বাদশাহ ও ইশা রিখির সম্পর্ক শুরু থেকেই ছিল অনেকটা আড়ালে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে একটি পার্টিতে পারস্পরিক বন্ধুদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা সম্পর্কে জড়ালেও দীর্ঘ সময় নিজেদের সম্পর্কটি প্রকাশ্যে আনেননি।

প্রায় চার বছর ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গণমাধ্যমের নজর থেকে দূরে রাখার পর চলতি বছরের মার্চে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল বেশ ঘরোয়া। পরে ইশার মা পুনম রিখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কিছু ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সেসব ছবিতে বাদশাহকে ঐতিহ্যবাহী কুর্তা ও সাফায় এবং ইশা রিখিকে লাল বিয়ের পোশাকে দেখা যায়। ছবি প্রকাশের পরই তাদের বিয়ের খবর নিয়ে ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। তবে বিয়ের পরও দুজন নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি।

জুলাইয়ে ইশা রিখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়োজিত ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে তাদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সময়ে তিনি বাদশাহর সঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশ করেন। সে সময় তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু এর কিছুদিন পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে নানা আলোচনা শুরু হয়।

ইশার একটি রহস্যময় ভিডিও পোস্ট সেই আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, প্রতিটি ঝড় একটি শিক্ষা এবং প্রতিটি প্রার্থনা একটি আশা। এরপর ইশার মায়ের কিছু পোস্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে। যদিও সেসব পোস্টের সঙ্গে দাম্পত্য বিচ্ছেদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা কখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

অবশেষে পাঁচ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসায় আগের সেই গুঞ্জনগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে বাদশাহ কিংবা ইশা—কেউই বিচ্ছেদের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণের কথা জানাননি। ফলে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটেছে, তা নিয়ে অনুমানভিত্তিক মন্তব্য না করাই আপাতত সবচেয়ে সংযত অবস্থান।

বাদশাহ ভারতীয় সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ। র‍্যাপ ও জনপ্রিয় সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন চলচ্চিত্রের গানেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংগীত অঙ্গনে সক্রিয় এই শিল্পী ব্যক্তিজীবন নিয়েও মাঝেমধ্যে সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছেন। ইশা রিখি অন্যদিকে পাঞ্জাবি চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের পরিচিত অভিনেত্রী। দুজনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন গোপন থাকায় তাদের বিয়ের খবর প্রকাশের সময়ও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গিয়েছিল।

ইশা রিখির সঙ্গে বিয়েটি ছিল বাদশাহর দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে ২০১২ সালে জ্যাসমিন মাসিহকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। সেই সংসার ২০২০ সালে বিচ্ছেদের মাধ্যমে শেষ হয়। সাবেক এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পরও মেয়েকে যৌথভাবে বড় করার দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

প্রথম দাম্পত্যের কয়েক বছর পর নতুন করে সংসার শুরু করেছিলেন বাদশাহ। অন্যদিকে ইশা রিখির সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়েতে রূপ নেয়। স্বাভাবিকভাবেই তাদের বিয়ের খবরকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ছিল উৎসাহ। কিন্তু সেই সম্পর্কেরও মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘোষণা বিনোদন অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তারকা দম্পতিদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে এখন ব্যক্তিগত জীবনের ছোট ঘটনাও দ্রুত জনসমক্ষে চলে আসে। কোনো পোস্ট, ছবি কিংবা ভিডিওকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই তৈরি হয় নানা ধরনের অনুমান। বাদশাহ ও ইশার ক্ষেত্রেও গত কয়েক সপ্তাহে এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছিল।

তবে বিচ্ছেদের ঘোষণায় দুজনের বক্তব্যের মূল সুর ছিল পারস্পরিক সম্মান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা। তারা নিজেদের পথ আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিলেও একে অপরের প্রতি অসম্মানজনক কোনো মন্তব্য করেননি। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, অন্তত প্রকাশ্যভাবে তারা বিষয়টিকে সংঘাতের বদলে সম্মানজনকভাবে শেষ করার চেষ্টা করছেন।

বিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কারণ সামনে না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সামনে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কীভাবে এগিয়ে যান, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত দুজনের পক্ষ থেকেই অনুরোধ করা হয়েছে, তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হোক এবং সম্পর্কের বিষয়ে অযাচিত জল্পনা থেকে বিরত থাকা হোক।

মাত্র পাঁচ মাস আগে যে সম্পর্ক নতুন সংসারের সূচনা করেছিল, সেটিই এখন বিচ্ছেদের ঘোষণায় শেষ হয়েছে। বিনোদন অঙ্গনের আলো ঝলমলে জীবনের আড়ালে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতাও যে কতটা গভীর হতে পারে, বাদশাহ ও ইশা রিখির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত যেন তারই আরেকটি উদাহরণ। তবে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রকৃত কারণ ও অনুভূতি সম্পর্কে শেষ কথা বলার অধিকার কেবল তাদেরই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত