৬৪ জেলায় বিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩১ বার
৬৪ জেলায় বিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণ

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দেশের তরুণদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ে বিনা মূল্যে বেসিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। দেশের ৬৪ জেলায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দুই মাস মেয়াদি এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ ফি দিতে হবে না। প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা ও খাবার দেওয়া হবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ ও আধুনিক শ্রমবাজারের উপযোগী জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বদলে দিচ্ছে কাজের ধরন, ব্যবসা, শিক্ষা, যোগাযোগ ও সেবাখাত। প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের দক্ষ করে তোলার গুরুত্বও বাড়ছে। বাংলাদেশেও তরুণদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক ও নারীরা এ প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এর পাশাপাশি কম্পিউটার ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বা আইসিটি বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

অর্থাৎ শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে না; কম্পিউটার ব্যবহারের মৌলিক ধারণাও থাকতে হবে। এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণকে কার্যকর করতে প্রযুক্তির প্রাথমিক জ্ঞানসম্পন্ন তরুণদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণটি শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর। দুই মাসব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ও ব্যবহারিক ধারণা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আগ্রহীদের আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শেষ সময় পার হয়ে গেলে আবেদন গ্রহণের সুযোগ থাকবে না।

প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৬ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মৌখিক পরীক্ষা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র ও পরীক্ষার সময় আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। ফলে যারা আবেদন করবেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করার পাশাপাশি পরীক্ষাসংক্রান্ত এসএমএসের দিকে নজর রাখতে হবে।

প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে কম্পিউটার ও আইসিটি বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা রয়েছে এবং ইংরেজিতে দক্ষ—এমন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক অনেক উপকরণে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বেশি হওয়ায় এ ধরনের দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা যায়।

দেশের আটটি বিভাগকে চারটি প্যাকেজে ভাগ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজধানী বা বড় শহরকেন্দ্রিক প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের পরিবর্তে জেলা পর্যায়েও এ ধরনের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে।

বিশেষ করে যারা ব্যক্তিগতভাবে ব্যয়বহুল প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ নেওয়ার সামর্থ্য রাখেন না, তাদের জন্য বিনা মূল্যের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রশিক্ষণ ফি না থাকার পাশাপাশি প্রতিদিন ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা ও খাবারের সুবিধা থাকায় আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রশিক্ষণ থেকে দূরে থাকা তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়তে পারে।

বর্তমানে চাকরির বাজারে শুধু প্রচলিত শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, ডিজিটাল যোগাযোগ, তথ্য বিশ্লেষণ, অনলাইন কাজ এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রেও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

এআই এখন কনটেন্ট তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা, শিক্ষা, গবেষণা, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে তরুণদের এআই সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গে নিজেদের আরও সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রেও এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করাও গুরুত্বপূর্ণ। দুই মাসের একটি বেসিক প্রশিক্ষণ কোনো ব্যক্তিকে রাতারাতি এআই বিশেষজ্ঞ করে তুলবে না। বরং এটি প্রযুক্তির মৌলিক ধারণা অর্জন এবং পরবর্তী সময়ে আরও উন্নত দক্ষতা অর্জনের একটি ভিত্তি তৈরি করতে পারে। প্রশিক্ষণ শেষে নিয়মিত অনুশীলন ও উচ্চতর শিক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের দক্ষতা আরও বাড়াতে পারবেন।

তরুণদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থানের প্রচলিত ধারণাতেও পরিবর্তন আনতে পারে। আগে যেখানে চাকরির জন্য শুধু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হতো, সেখানে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের পর অনলাইনভিত্তিক কাজ, ফ্রিল্যান্সিং এবং দূরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগও বিবেচনা করা সম্ভব। তবে এসব ক্ষেত্রে সফল হতে হলে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন।

সরকারের বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ উদ্যোগ তাই তরুণদের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করলেও এর পূর্ণ সুফল পেতে প্রশিক্ষণার্থীদের নিজেদেরও সক্রিয় হতে হবে। শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শেখা বিষয়গুলো নিয়মিত চর্চা করা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তিতে প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ যত বেশি বিস্তৃত হবে, তত বেশি মানুষ ভবিষ্যতের পরিবর্তিত কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৬৪ জেলায় এআই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ তাই শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, বরং তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। আবেদন, বাছাই ও প্রশিক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু তরুণ নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এখন আগ্রহী তরুণদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা এবং বাছাই পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া। বিশেষ করে কম্পিউটার, আইসিটি ও ইংরেজিতে যাদের প্রাথমিক দক্ষতা রয়েছে, তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য একটি নতুন ভিত্তি তৈরি করতে পারেন। বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ, যাতায়াত ভাতা ও খাবারের সুবিধাসহ এই উদ্যোগ প্রযুক্তির জগতে প্রবেশের জন্য অনেক তরুণের সামনে একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত