জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ বার
জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তিনি জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের নারীর ক্ষমতায়ন ও কল্যাণে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে তার দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

আফরোজা আব্বাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি পরিচিত নাম। তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, যিনি মির্জা আব্বাস নামে পরিচিত, তার সহধর্মিণী।

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে আফরোজা আব্বাসের নিয়োগের বিষয়টি এর আগে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়। গত ১৬ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তিনি অবৈতনিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন এবং যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য তার নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার এখতিয়ার সরকারের রয়েছে। একইভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনরত আফরোজা আব্বাসও চাইলে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারবেন। ফলে তার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রযোজ্য বিধিবিধানের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

জাতীয় মহিলা সংস্থা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দেশের নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নারীর আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগে নারীদের সম্পৃক্ত করার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংস্থাটির কার্যক্রম জড়িত।

বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং তাদের অধিকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জাতীয় মহিলা সংস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। শহর থেকে গ্রাম—বিভিন্ন পর্যায়ের নারীদের সামাজিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং সুযোগের বৈষম্য মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের গুরুত্ব রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নেও সংস্থাটি ভূমিকা পালন করে থাকে।

এমন একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে আফরোজা আব্বাসের দায়িত্ব গ্রহণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নারী সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ফলে জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব কেমন ভূমিকা রাখে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর থাকবে।

নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নটি বর্তমানে শুধু সামাজিক উন্নয়নের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগও গভীরভাবে যুক্ত। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী হওয়ায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। তাই নারী উন্নয়নকেন্দ্রিক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা সাধারণ মানুষের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

আফরোজা আব্বাসের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় মহিলা সংস্থার সামনে নতুন নেতৃত্বের একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময়ে নারীদের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম জোরদার করা এবং মাঠপর্যায়ে সংস্থার উদ্যোগ আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া—এসব বিষয় তার নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীরা এখনো নানা ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। অনেক নারী শিক্ষার সুযোগ, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার, গ্রামীণ এলাকা এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর নারীদের জন্য দক্ষতা ও আয়ের সুযোগ তৈরি করা নারীর ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় মহিলা সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং স্বাবলম্বিতা তৈরির কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার বিষয়টিও নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত হতে পারে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইনভিত্তিক কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

একই সঙ্গে নারী ও শিশুর অধিকার, পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলার মতো বিষয়গুলোও নারী উন্নয়নের বৃহত্তর পরিসরের সঙ্গে সম্পর্কিত। সরকারি ও সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

আফরোজা আব্বাস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যক্রমে কী ধরনের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির নীতিগত ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে কতটা প্রতিফলিত হয়, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

দুই বছরের জন্য অবৈতনিক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আফরোজা আব্বাসের সামনে তাই একদিকে যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে নারীদের জন্য কার্যকর ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা। দেশের নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে জাতীয় মহিলা সংস্থার বিদ্যমান ভূমিকা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার মাধ্যমে তার দায়িত্বকাল অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। আগামী দিনগুলোতে জাতীয় মহিলা সংস্থার কর্মপরিকল্পনা, নারীবান্ধব উদ্যোগ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের মাধ্যমে তার নেতৃত্বের অগ্রাধিকার ও কর্মদক্ষতার প্রতিফলন ঘটবে। দেশের নারীসমাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কতটা বাস্তবভিত্তিক ও ফলপ্রসূ হয়, সেটিই হবে তার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়নের ক্ষেত্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত