প্রথম কাউন্সিলে ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে আসছেন বাকের-তাহমীদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার
প্রথম কাউন্সিলে ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে আসছেন বাকের-তাহমীদ

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বছরে অনুষ্ঠিত এই কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্বও নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এবং মাহফুজ খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী, মো. লিমন হাছান ও মাহফুজুর রহমান। সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তবে সংগঠনের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আবু বাকের মজুমদার ও তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। কাউন্সিলের ভোটের ফল ঘোষণার পরই অবশ্য চূড়ান্তভাবে জানা যাবে কারা নেতৃত্বে আসছেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের পাশাপাশি আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদেরও প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করা এবং নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই কাউন্সিল আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রথম কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে আবু বাকের মজুমদার ও মাহফুজ খানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরীর সঙ্গে লিমন হাছান ও মাহফুজুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আবু তৌহিদ মো. সিয়াম, শ্যামলী সুলতানা জেদনী ও জহিরুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন।

আবু বাকের মজুমদার বর্তমানে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটির আগের নাম বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ বা বাগছাস থাকার সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তাদের প্রার্থিতা কাউন্সিলের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্ব নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। সভাপতি পদে হাসিব আল ইসলাম ও সাকিবুল ইসলামের নাম আলোচনায় রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সাকিব ও রায়হান ফেরদৌসের প্রার্থিতা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাউন্সিল একই দিনে হওয়ায় দিনটিকে সংগঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কাউন্সিলের কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। এরপর নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবেন। ভোটগ্রহণের পাশাপাশি আলোচনা সভা, র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রয়েছে কর্মসূচিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে দিনব্যাপী আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক যাবের বিন নূর জানিয়েছেন, কাউন্সিলের বিভিন্ন পর্বে ভোটগ্রহণের পাশাপাশি আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যালি ও অন্যান্য কর্মসূচি থাকবে। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলটির সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ছাত্র সংগঠনটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের গুরুত্ব শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংগঠনটির জন্য এটি নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরারও একটি সুযোগ। বিভিন্ন ইউনিট থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের অংশগ্রহণে নেতৃত্ব নির্বাচন হলে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব সংগঠনকে কতটা বিস্তৃত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারে, সেটিও সামনে আসবে।

জাতীয় ছাত্রশক্তির বর্তমান অবস্থান বুঝতে হলে এর পূর্ববর্তী সাংগঠনিক যাত্রার দিকেও ফিরে তাকাতে হয়। সংগঠনটি প্রথমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ বা বাগছাস নামে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের একটি অংশের উদ্যোগে সংগঠনটি গড়ে ওঠে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী সংগঠনটি দ্রুত বিস্তৃত সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কাঠামো ও কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে জাতীয় ছাত্রশক্তি করা হয়। নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সাংগঠনিক নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। জাহিদ আহসানকে সভাপতি এবং আবু বাকের মজুমদারকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গঠন করা হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাতেও তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরীকে সভাপতি করা হয়।

সম্প্রতি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সভাপতি জাহিদ আহসানের পদত্যাগের পর সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সামনে আসে। ফলে আজকের কাউন্সিলকে সংগঠনটির পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি সংগঠন যখন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায় পার করে স্থায়ী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির দিকে এগোয়, তখন নেতৃত্ব নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও তৃণমূলের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জাতীয় ছাত্রশক্তির ক্ষেত্রেও সেই পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজকের কাউন্সিলের মাধ্যমে। নির্বাচিত নেতৃত্বকে একদিকে সংগঠনের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে হবে, অন্যদিকে ছাত্রসমাজের কাছে নিজেদের অবস্থান ও কর্মসূচি স্পষ্ট করতে হবে।

বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের একটি অংশ রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এনসিপির সহযোগী ছাত্র সংগঠন হিসেবে জাতীয় ছাত্রশক্তির সামনে রয়েছে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করার বড় সুযোগ। তবে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেই সাংগঠনিক সাফল্য নিশ্চিত হবে না; নিয়মিত কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কাজ, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণও সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজকের কাউন্সিলে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, সেদিকে যেমন সংগঠনের নেতাকর্মীদের নজর রয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আবু বাকের মজুমদার ও তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী নেতৃত্বে এলে সংগঠনের বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, নাকি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হবে—তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বই আগামী দিনের সাংগঠনিক পথ নির্ধারণ করবে।

জাতীয় ছাত্রশক্তির জন্য তাই আজকের দিনটি কেবল একটি কাউন্সিলের দিন নয়; বরং সংগঠনটির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিচয়, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। প্রথম জাতীয় কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্ন হলে সংগঠনটি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে এগোতে পারবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত