রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার সিলেট যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৬ বার
রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার সিলেট যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক দিনের সফরে সিলেটে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে নগরী ও আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিলেটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। সিলেটের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই স্থানে তার সফরকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতির সিলেট নগরীতে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেল ৩টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে নগরবাসীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছাড়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের প্রথম সিলেট সফর হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এ সফর নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচিতির বাইরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে তার সিলেট সফরকে ভিন্ন গুরুত্বে দেখছেন অনেকে।

সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রবাসী অধ্যুষিত জনপদের অন্যতম কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সঙ্গে সিলেটের রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ। ফলে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সিলেট নগরীতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের সম্ভাব্য পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ গোছানোর কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়।

রাষ্ট্রপতির সফরকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। এসব সভায় রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সফরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যাতায়াতের সম্ভাব্য পথ এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সফরের বিভিন্ন ধাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফর ঘিরে সাধারণত নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর থাকে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের সময় নগরীর বিভিন্ন সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে। এতে নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচলে কিছুটা প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিলেটের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ নিয়মিত এসব পবিত্র স্থানে জিয়ারত করতে আসেন। রাষ্ট্রপতির সফরসূচিতে দুই মাজারের জিয়ারত থাকায় সফরের শুরুতেই সিলেটের আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক সংযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা রাষ্ট্রপতির সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নগরবাসীর প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি করপোরেশনের আয়োজনে এই সংবর্ধনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও পেশাজীবী অঙ্গনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি থাকার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের মানুষের একটি আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে সিলেট নগরীর সাধারণ পরিবেশেও উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলো সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আয়োজনের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। সফরসূচির প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাগুলো নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছে। রাষ্ট্রপতির আগমন থেকে শুরু করে কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় ফিরে যাওয়া পর্যন্ত পুরো সময়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে সিলেট সফর তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়, স্থানীয়ভাবে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এক দিনের এই সফরে ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন, নাগরিক সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যোগাযোগ—সব মিলিয়ে সিলেটের জন্য দিনটি বিশেষ হয়ে উঠতে পারে।

সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তা সোমবারের মধ্যেই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন অপেক্ষা মঙ্গলবারের। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আগমন, মাজার জিয়ারত, নাগরিক সংবর্ধনা এবং সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এক দিনের এই সফর। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও নাগরিক সহযোগিতার সমন্বয়ে সফরটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত