আট বছর পর ফেব্রুয়ারিতে ইবির পঞ্চম সমাবর্তন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২০ বার
আট বছর পর ফেব্রুয়ারিতে ইবির পঞ্চম সমাবর্তন

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পঞ্চম সমাবর্তন। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এই সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সমাবর্তনের বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পঞ্চম সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে অবহিত করা হয় এবং তিনি এতে সম্মতি দেন বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমাবর্তন শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বছরের পর বছর ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন, তাদের কাছে সমাবর্তনের মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ গ্রহণ একটি আবেগঘন ও স্মরণীয় মুহূর্ত।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। ফলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে ক্যাম্পাসে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন আগে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, তাদের অনেকের কাছেই সমাবর্তনের অপেক্ষা ছিল একটি অসম্পূর্ণ অধ্যায়ের মতো। শিক্ষাজীবন শেষ হলেও আনুষ্ঠানিক সমাবর্তনের অভিজ্ঞতা না থাকায় সেই অধ্যায়ের পূর্ণতা যেন অধরাই ছিল। এখন সেই অপেক্ষার অবসানের সম্ভাবনা তাদের পুরোনো স্মৃতি ও নতুন প্রত্যাশাকে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত চারটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে। অর্থাৎ সর্বশেষ সমাবর্তনের পর কেটে গেছে প্রায় আট বছর। এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী স্নাতক, স্নাতকোত্তরসহ উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তাদের অনেকেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে গেছেন, আবার কেউ গবেষণা ও পেশাগত জীবনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন না হওয়ায় তাদের অনেকের শিক্ষাজীবনের একটি প্রত্যাশিত অধ্যায় সম্পূর্ণ হয়নি।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমাবর্তন একই সঙ্গে ঐতিহ্য, স্বীকৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক গৌরবের প্রতীক। শিক্ষার্থীরা শুধু একটি সনদ গ্রহণ করেন না, তারা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখেন। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের শুভেচ্ছা, সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ—সবকিছু মিলিয়ে সমাবর্তন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাণবন্ত আয়োজন হয়ে ওঠে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনও তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও নতুন উৎসাহ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক সাবেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।

সমাবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোন কোন শিক্ষাবর্ষ ও কোন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে এবং সমাবর্তনের বিস্তারিত কর্মসূচি কী হবে—এসব বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ঘোষণা আসার কথা। সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিষয় স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

দীর্ঘ সময় পর সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। নিয়মিত বিরতিতে সমাবর্তন আয়োজন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের অর্জনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে। পঞ্চম সমাবর্তন সেই সম্পর্ককে নতুনভাবে সক্রিয় করার একটি বড় সুযোগ হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছেও এই আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে। কারণ তারা নিজেদের সিনিয়রদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাপ্তি প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেদের সমাবর্তন নিয়েও একটি ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করতে পারবেন। একটি প্রাণবন্ত সমাবর্তন অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্জনকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার সুযোগও তৈরি করে।

অন্যদিকে সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য এই সমাবর্তন হতে পারে বহু পুরোনো স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার উপলক্ষ। জীবনের ব্যস্ততায় বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া সহপাঠীরা আবার একই ক্যাম্পাসে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। কেউ হয়তো দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করবেন, কেউ ফিরে তাকাবেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দিনগুলোর দিকে। ফলে আনুষ্ঠানিক সনদ গ্রহণের পাশাপাশি এটি একটি বড় পুনর্মিলনের আবহও তৈরি করতে পারে।

দীর্ঘ আট বছর পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনের সিদ্ধান্ত তাই শুধু একটি তারিখ ঘোষণার ঘটনা নয়; এটি অপেক্ষা, অর্জন, স্বীকৃতি ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রত্যাশার নতুন অধ্যায়। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিলে বহু গ্র্যাজুয়েটের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আনুষ্ঠানিক পূর্ণতা পাবে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে অপেক্ষা—কবে শুরু হবে নিবন্ধন, কীভাবে সাজানো হবে আয়োজন এবং কবে সেই বহুল প্রতীক্ষিত সমাবর্তনের মঞ্চে উঠে নিজেদের অর্জনের স্বীকৃতি হাতে নেবেন প্রিয় শিক্ষার্থীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত