প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। নতুন কমিটিতে জেলা যুবদলের সভাপতি করা হয়েছে মোহাম্মদ মকসুদ আহমদকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আবদুস সালাম টিপুকে। অন্যদিকে মহানগর যুবদলের সভাপতি হয়েছেন মির্জা মোহাম্মদ সম্রাট এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন দিনার। কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার এ দুই কমিটির অনুমোদনের কথা জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের অনুমোদনক্রমে কমিটি দুটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতেও নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি জানানো হয়। ঘোষিত কমিটি আপাতত আংশিক পর্যায়ের। উভয় শাখায় পাঁচজন করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
সিলেট জেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি মোহাম্মদ মকসুদ আহমদের সঙ্গে সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন কয়েস আহমদ। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আবদুস সালাম টিপুকে। প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাশরুর রাসেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন হাবিবুল বাশার হাবিব। এ নেতৃত্বের মাধ্যমে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
অন্যদিকে সিলেট মহানগর যুবদলের সভাপতি হয়েছেন মির্জা মোহাম্মদ সম্রাট। কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এমদাদুল হক স্বপন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন দিনার। প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহসিন মেহদী প্রিন্স এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হোসাইন আহমদ। মহানগর পর্যায়েও এ পাঁচজনকে নিয়ে প্রাথমিক নেতৃত্ব কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলা ও মহানগর যুবদলের নবগঠিত দায়িত্বশীলদের আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে হবে। ফলে আংশিক কমিটি ঘোষণার পর এখন সংগঠনটির স্থানীয় পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব নির্বাচন ও সাংগঠনিক কাঠামো সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া সামনে এসেছে।
সিলেটের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিসরে যুবদলের জেলা ও মহানগর শাখা গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সামনে এখন নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কারা স্থান পাবেন, সে বিষয়ে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার পর সিলেট নগরীতে যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহের চিত্রও দেখা গেছে। নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে নগরীতে আনন্দ র্যালি করা হয়। রেজিস্ট্রি মাঠ থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এতে নতুন দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন বলে স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নবগঠিত মহানগর যুবদলের সভাপতি মির্জা মোহাম্মদ সম্রাট জানিয়েছেন, আপাতত জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়টিই এখন সংগঠনের সামনে অন্যতম প্রধান সাংগঠনিক দায়িত্ব হিসেবে থাকছে।
সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে এবারের পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ঘোষিত কয়েকজন নেতা এর আগে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার ফলে তাদের ওপর জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব আরও সরাসরি এসেছে।
এর আগে ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভোটের মাধ্যমে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছিল। সে সময় জেলা যুবদলে মোমিনুল ইসলাম সভাপতি এবং মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই প্রক্রিয়ায় মহানগর যুবদলে শাহনেওয়াজ বখত চৌধুরী সভাপতি এবং মির্জা মোহাম্মদ সম্রাট সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুই শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতার পর এবার নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলো। নতুন কমিটিতে জেলা ও মহানগরের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি পদে দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমের একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি পদগুলো পূরণ করে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।
রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার বিষয়গুলো সাধারণত আলোচনায় থাকে। সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের ক্ষেত্রেও নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা ও অনুমোদনের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কোনো নাম বা পদ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন সবচেয়ে তাৎক্ষণিক কাজ হলো নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা। একই সঙ্গে জেলা ও মহানগর—দুই সাংগঠনিক কাঠামোর কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হলে সিলেট যুবদলের সাংগঠনিক কাঠামো নতুনভাবে কার্যকর হওয়ার সুযোগ পাবে।
সব মিলিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির স্থানীয় নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে মকসুদ আহমদ ও আবদুস সালাম টিপু এবং মহানগর পর্যায়ে মির্জা মোহাম্মদ সম্রাট ও দেলোয়ার হোসেন দিনারের নেতৃত্বে প্রাথমিক কাঠামো দাঁড়িয়েছে। এখন ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং তা কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হবে।