নাশকতার অভিযোগে সতর্ক বিএনপি, মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৭ বার
নাশকতার অভিযোগে সতর্ক বিএনপি, মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থেকে মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলের নেতারা বলছেন, কোনো ধরনের নাশকতা বা অস্থিতিশীলতার সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা হবে।

রোববার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক এবং পরবর্তী যৌথসভায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব, বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগরের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকের পর দলীয় নেতারা জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো জননিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদেরও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার কথা জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। কয়েকটি ঘটনায় গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, দলের সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, সে বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনও দলীয় কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি আয়োজনের কথা রয়েছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চান।

বিএনপির যৌথসভা থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত সহিংসতা বা নাশকতার মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দলীয় সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, বিএনপির মূল সংগঠনের পাশাপাশি ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের উসকানি বা নাশকতার ঘটনা চোখে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। দলীয় কর্মীদের সরাসরি আইন হাতে না তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিএনপির বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়লে একই সময়ে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারও অবস্থান জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকার উদ্বিগ্ন নয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। বিএনপি ও তাদের মিত্র রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঘটনাগুলোকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতা হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ বা সহিংসতার জন্য রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ না করে প্রত্যক্ষ প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য ও অন্যান্য তদন্ত-উপাত্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার বিষয়টি আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উদ্বেগের জায়গাটিও ক্রমে বড় হচ্ছে। বাসে আগুন, সড়কে বিস্ফোরণ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটলে রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে সাধারণ যাত্রী, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরাও ঝুঁকিতে পড়েন। ফলে রাজনৈতিক বিরোধ বা দলীয় কর্মসূচির সঙ্গে জননিরাপত্তার বিষয়টি যেন যুক্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

বিএনপির নেতারা বলছেন, তারা রাজনৈতিকভাবে মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং নাশকতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন। দলটির সাম্প্রতিক যৌথসভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাস বা অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও বাড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটা নির্ভর করবে।

বিএনপির মাঠে সক্রিয় থাকার ঘোষণা রাজনৈতিক পরিসরে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দিলেও, এর পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্য যেন সহিংসতা বা জননিরাপত্তার ঝুঁকিতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত