শ্যামনগরে গাজী নজরুলের স্ত্রী মরিয়মের দাফন সম্পন্ন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার
শ্যামনগরে গাজী নজরুলের স্ত্রী মরিয়মের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরিয়মের মৃত্যু ঘিরে এরই মধ্যে একটি মামলা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তের আওতায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতের শেষভাগে গাবুরা ইউনিয়নের সরদারপাড়া এলাকায় মরিয়মের মরদেহ পৌঁছায়। তার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং স্থানীয়ভাবে কবরও প্রস্তুত করা হয়েছিল। পরে মরদেহ গোসল করানো ও জানাজা সম্পন্ন করে রাত পৌনে ১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিউল আলম পাটোয়ারী দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দাফন ও জানাজার সময় মরিয়মের পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর নিজ এলাকার মাটিতে মরদেহ ফিরে আসায় স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, মরিয়মের পরিবার প্রায় এক দশক আগে উপকূলীয় এলাকার নানা বাস্তবতার কারণে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেছিল। জীবনের শেষ সময়ে আবারও সেই গ্রামের মাটিতেই ফিরতে হয়েছে তাকে।

মরিয়ম খাতুনের বয়স নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তার মৃত্যু ঘটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ সদস্য ভবন, ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে। রোববার সন্ধ্যায় ওই ফ্ল্যাট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের এক আত্মীয় ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকসুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মামলার আরেক আসামি ওবায়দুর রহমান পলাতক রয়েছেন বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মামলায় করা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামিকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী ছিল, তিনি কী পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন এবং মৃত্যুর ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়াই এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য সামনে আনবে।

মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। স্বজনদের বক্তব্য, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের এই দাবি এখন তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

মরিয়মের মরদেহ ঢাকায় ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সাতক্ষীরার উদ্দেশে নেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে মরদেহ পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবারের মতো তাকে দেখেন। এরপর জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। রাত গভীর হওয়ার কারণে দাফনও সম্পন্ন হয় মধ্যরাতে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

মরিয়মের পারিবারিক জীবনের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে জনপরিসরে আলোচনায় আসে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও বিয়ের সূত্রে। গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে জানানো হয়েছে, তাকে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত ঘটনাটি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো অবস্থান নেই।

এদিকে মরিয়মের মৃত্যু ও পরবর্তী মামলা রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একটি ব্যক্তিগত ও আইনগত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। একটি তরুণীর আকস্মিক মৃত্যু, পরিবারের শোক এবং মৃত্যুর কারণ নিয়ে ওঠা প্রশ্ন—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে মৃত্যুর স্থান, ময়নাতদন্তের ফল, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আইনগতভাবে কোনো মৃত্যুকে আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে বলে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের আগে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ঘটনায়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার আইনি নীতিও প্রযোজ্য।

শ্যামনগরের গাবুরার যে মাটিতে মরিয়মের শৈশব ও পারিবারিক স্মৃতি জড়িয়ে ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই জায়গাতেই তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একসময় যে পরিবার জীবনের প্রয়োজন ও নানা বাস্তবতায় গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিল, সেই পরিবারের এক সদস্যের শেষ যাত্রা আবার ফিরিয়ে আনল পুরোনো ঠিকানায়। কিন্তু শোকের পাশাপাশি মরিয়মের মৃত্যু ঘিরে যে প্রশ্নগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোর উত্তর এখন নির্ভর করছে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত