কেরানীগঞ্জে গুলি করে ২৫ ভরি সোনা ছিনতাই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ বার
কেরানীগঞ্জে গুলি করে ২৫ ভরি সোনা ছিনতাই

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অটোরিকশা থামিয়ে গুলি চালিয়ে এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও তাঁর ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দুজনই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আটিপাড়া এলাকার অন্তর সরকার (২৫) ও তাঁর ফুফাতো ভাই রাজিব সরকার (২০)। তাঁদের দুজনেরই পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতের ব্যস্ততা কমে আসার সময় সড়কে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অন্তর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জের হযরতপুর বাজারে তাঁদের একটি জুয়েলারি দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করার পর তাঁরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সঙ্গে ছিলেন অন্তরের বাবা নিতাই সরকার এবং তাঁর ফুফাতো ভাই রাজিব সরকার। তাঁদের কাছে দোকানের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিল। একটি অটোরিকশায় করে তাঁরা বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।

হযরতপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর তাঁদের যাত্রাপথ হঠাৎ আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অন্তর সরকার। তাঁর দাবি, তিনটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের অটোরিকশার গতিরোধ করেন। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা গুলি ছোড়ে। এতে অন্তর ও রাজিব দুজনই গুলিবিদ্ধ হন।

হামলার একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাঁদের সঙ্গে থাকা একটি টিফিনবক্স নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই বাক্সে ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল বলে জানিয়েছেন অন্তর সরকার। স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি তাঁদের কাছে নগদ টাকাও ছিল বলে জানা গেলেও ঠিক কত টাকা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি জানতে পেরে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায় এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করে।

গুলিবিদ্ধ অন্তর সরকার ও রাজিব সরকারকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের পায়ে গুলি লাগায় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁদের চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। হামলার আকস্মিকতায় আহত দুই তরুণ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুছ জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের জন্য ঘটনার সময় ব্যবহৃত যানবাহন, হামলাকারীদের সংখ্যা, তাঁদের গতিপথ এবং আশপাশের এলাকার সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে হামলাকারীরা কীভাবে ঘটনাস্থলে এসেছিল এবং ঘটনার পর কোন পথে পালিয়েছে, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জুয়েলারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দোকান বন্ধের পর স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিরাপদে বহন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দিনের শেষে ব্যবসার মালামাল নিয়ে চলাচলের সময় অপরাধীদের নজরে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে কীভাবে অপরাধীরা তথ্য পেয়েছিল বা আগে থেকে পরিকল্পনা করেছিল কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

কেরানীগঞ্জ রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এখানকার সড়কগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। ফলে কোনো সড়কে অস্ত্রের ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে তা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

এই ঘটনার বিশেষ দিক হলো, শুধু অর্থ বা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগই নয়, হামলায় আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে তদন্তে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি হামলার ধরন এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করলে হামলার পূর্ণ চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাতের বেলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে টহল জোরদার এবং সন্দেহজনক যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসতে পারে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পুলিশ ইতোমধ্যে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকারের পরিমাণ সম্পর্কেও আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

একটি স্বাভাবিক কর্মদিবস শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথেই অন্তর সরকার ও রাজিব সরকারের ওপর এই হামলার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসার দিনের শেষ মুহূর্তটি তাঁদের জন্য পরিণত হয়েছে আতঙ্ক ও শারীরিক আঘাতের ঘটনায়। স্বর্ণালংকার হারানোর পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তাঁদের পরিবারকেও গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে।

এখন পুলিশের তদন্ত ও অভিযান কতটা দ্রুত এগোয় এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার, সেই প্রশ্নও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত