সীমান্তে ৬৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার
সীমান্তে ৬৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী, সিগারেট, গবাদিপশু, বাজি ও একটি মোটরসাইকেলসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য এসব অভিযানে জব্দ করা হয়।

বুধবার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাদলা এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে এসব কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, কসবার খাদলা সীমান্ত এবং কুমিল্লার সালদানদী, শশীদল, শংকুচাইল ও খারেরা সীমান্ত এলাকায় পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, বাসমতি চাল, ফুচকা, অলিভ অয়েল, জনসন বেবি পাউডার, বাজি, সিগারেট, গরু এবং একটি মোটরসাইকেল।

বিজিবির হিসাবে, এসব জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮০০ টাকা। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চোরাচালান ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চোরাচালানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রবেশের ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে স্থলসীমান্তের দুর্গম ও অপেক্ষাকৃত কম জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা পণ্য স্থানান্তরের চেষ্টা করে থাকে। এসব তৎপরতা ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নিয়মিত টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত এলাকাতেও এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত দিয়ে বৈধ বাণিজ্যের বাইরে পণ্য প্রবেশের ফলে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে বাজারে প্রবেশ করলে বৈধভাবে আমদানি করা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের অভিযানে জব্দ করা পণ্যের ধরনও বেশ বৈচিত্র্যময়। পানীয় ও খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি প্রসাধনী, সিগারেট, বাজি, গরু এবং মোটরসাইকেলও পাওয়া গেছে। এসব পণ্য কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশের অভ্যন্তরে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় গবাদিপশু ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের অবৈধ পরিবহন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে সিগারেট ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও অনুমোদিত বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেশে প্রবেশের চেষ্টা হলে তা চোরাচালানের আওতায় পড়ে। তাই সীমান্তে অবৈধ পণ্য পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর প্রয়োজন রয়েছে।

সীমান্তে একাধিক স্থানে একই দিনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দের ঘটনা সংশ্লিষ্ট এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত তৎপরতার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে জব্দ করা পণ্যের পাশাপাশি এসব পণ্য পরিবহনের সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে সেগুলো সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং কোথায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন। সীমান্তে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি বৈধ বাণিজ্যের পথ সহজ ও কার্যকর রাখা হলে সীমান্ত এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বৈধ চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশও স্বাভাবিক রাখা হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজিবির পক্ষ থেকে অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণায় সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার তৎপরতা প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্যও চোরাচালান একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়। অনেক সীমান্ত এলাকায় বৈধ বাণিজ্যের পাশাপাশি অবৈধভাবে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা দেখা যায়। এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা এবং বৈধ বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সীমান্তে বসবাসকারী মানুষ যাতে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন।

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় একসঙ্গে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দের ঘটনা আবারও দেখিয়েছে যে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে জব্দ করা পণ্য শুধু উদ্ধার করাই নয়, এসব পণ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চোরাচালান নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও কার্যকর প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার বৈধ বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জনজীবন যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও প্রয়োজনীয় ভারসাম্য বজায় রাখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত