বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফেনীতে সড়ক সংস্কারকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। অভিযোগ উঠেছে, দলের জেলা সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান মাসুদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কাজের বিনিময়ে চাঁদা দাবি করেছেন। চাঁদার দাবির কারণে দুটি সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও ঠিকাদারি মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবীকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী ও কপিল উদ্দিন মামুন। গঠিত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, সড়ক সংস্কারকাজ নিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে জেলা বিএনপি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতেই এই কমিটি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিযোগের বিষয়ে এরই মধ্যে আদালতে দুটি মামলা হয়েছে। গত রোববার ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান মাসুদকে একমাত্র আসামি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা পৃথক দুটি মামলা করেন। আদালত অভিযোগ দুটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার জন্য ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চাঁদার দাবি এবং সড়কের সংস্কারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুই ঠিকাদারের করা অভিযোগ আদালতের নির্দেশের পর মামলা হিসেবে থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু দলীয় তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, টেন্ডারে নির্ধারিত মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুটি সড়কের সংস্কারকাজে বাধা দেওয়া হয় এবং কাজ বন্ধ রাখতে হয়। ঠিকাদারদের অভিযোগের ফলে সরকারি উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি সড়কের কাজ থেমে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, পণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যোগাযোগব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সংস্কারের জন্য কোনো সড়ক আগে থেকেই আংশিকভাবে বন্ধ বা নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্যস্ত থাকলে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়া প্রয়োজন। দলীয় তদন্ত কমিটি অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে রেকর্ড হওয়া মামলার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার ধরন এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করবে।

তদন্ত কমিটি নিয়ে অবশ্য ইতোমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন। তিনি ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে সরাসরি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দলের প্রতি আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, অভিযোগের বিষয়ে তিনি শুধু তদন্ত নয়, দলীয় পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।

অন্যদিকে তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী জানিয়েছেন, কমিটি গঠনসংক্রান্ত কোনো চিঠি তিনি এখনো হাতে পাননি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে দেওয়া দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তার বক্তব্যে তদন্ত প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা বা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আদালতে মামলা রেকর্ড হওয়াও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমান নয়; মামলার পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই হবে।

রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নেতার বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা কিংবা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠলে তার প্রভাব দলীয় ভাবমূর্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনিক পরিবেশেও পড়তে পারে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দলীয় তদন্তের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে এগিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন। কারণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঠিকাদার, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

ফেনীর ঘটনাটি এখন দুই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। একদিকে জেলা বিএনপি গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে আদালতের নির্দেশে থানায় দুটি মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাবে। ফলে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং দল ও প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে এবং সড়ক সংস্কারকাজ যাতে অযথা বন্ধ না থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি অর্থে পরিচালিত উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে এর সুফল সাধারণ মানুষই পায়। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বন্ধ হয়ে থাকা সড়ক সংস্কারকাজ দ্রুত স্বাভাবিক করার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অভিযোগগুলোর আইনগত অবস্থানও নির্ধারিত হবে। আপাতত ফেনীতে সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ ও চাঁদা দাবির অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক—দুই পর্যায়েই নজর রয়েছে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত